ওয়ানবাংলানিউজ: ব্রিটেনের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৮জুন। আর মাত্র এক সপ্তাহ সময়বাকী। বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপ সংস্থা ইতিমধ্যে নানান আগাম নির্বাচনী জরিপ প্রদান করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে যেভাবে মনে করেছিল পূর্বে চেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে, কিন্তু সেই ব্যবধান বহুগুনে কমে গেছে লেবার লিডারের নির্বাচনী ম্যানুফেস্টুর কারনে। এতে তরুন ও শিক্ষার্থীদের নানান সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে কনজারভেটিব সেক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। এনএইচএস কর্মচারীরা প্রকাশ্যেই লেবারকে সাপোর্ট দিচ্ছে।
বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা মাত্র ছয় আসনের। গত নির্বাচনে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা যে হারে ভোট দিয়েছেন, একই হারে ২৫ বছরের কম বয়সীরা যদি এবার ভোটকেন্দ্রে যান, তাহলে ক্ষমতাসীনদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ঝুলে যাবে। ৮ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ঘিরে ভোটের নানা বিশ্লেষণ এমনটাই ইঙ্গিত করছে। যে কারণে লেবার পার্টি নবীন ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
জরিপ সংস্থা ইপসস মরির তথ্যমতে, ২০১৫ সালের নির্বাচনে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মাত্র ৪৩ শতাংশ ভোট দিয়েছিল, যাদের ৪৩ শতাংশ ভোট পায় লেবার। আর মাত্র ১৭ শতাংশ পেয়েছিল ক্ষমতাসীন হওয়া কনজারভেটিভরা। বিপরীতে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ভোট প্রদানের হার ছিল ৭৮ শতাংশ, যাদের ৪৭ শতাংশ ভোট পায় কনজারভেটিভরা। এসব ভোটের মাত্র ২৩ শতাংশ পড়ে লেবারের ভাগে।
জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রবীণদের মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন বেশি হওয়ায় এবং ভোটকেন্দ্রে এদের উপস্থিতি বেশি হওয়ার কারণেই বিজয় পেয়ে যায় কনজারভেটিভরা। তাদের মতে, কেবল ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা প্রবীণদের সমান হারে ভোট দিলে এবং আনুপাতিক পছন্দ ঠিক থাকলে অন্তত ৫ থেকে ১০টি আসন হারাবেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে।
আরেক জরিপ সংস্থা ইউগভ জানাচ্ছে, ৪০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে লেবার পার্টির সমর্থন কনজারভেটিভের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। কিন্তু পড়াশোনা, চাকরি বা অবহেলার কারণে এসব তরুণ ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে তাদের খুব একটা প্রভাব থাকে না। সংস্থাটি বলছে, যুক্তরাজ্যের প্রধান দুই দলের সমর্থকদের শ্রেণি বিভক্তি এখন বড় কোনো বিষয় নয়। বরং বয়সের ভিত্তিতে সমর্থকেরা বিভক্ত।
তরুণ ও প্রবীণদের নিয়ে বিবিসি গত মঙ্গলবার রাতে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করে। এতে প্রবীণেরা স্বীকার করেন, তাঁরা বিনা মূল্যে শিক্ষা, কম মূল্যে বাড়ি ও সহজে মানসম্মত চাকরি লাভের যেসব সুবিধা ভোগ করেছিলেন, এখনকার তরুণেরা তার কিছুই পাচ্ছেন না। আবার সরকারি কল্যাণ সেবার অধিক সুবিধাভোগীও প্রবীণেরা। কনজারভেটিভের প্রতি তাঁদের সমর্থনের রহস্য সাংস্কৃতিক রক্ষণশীলতা ও পুঁজিবাদী মনোভাব।
লেবার নেতা জেরেমি করবিনের বিশেষ প্রভাব আছে তরুণদের ওপর। শিক্ষা ফি বাতিল, দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, সহনীয় মূল্যে আবাসন ও শ্রেণিবৈষম্য নিরসনসহ করবিনের উদার ও মানবিক নীতিগুলো তরুণদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলে। করবিনের নেতৃত্বে লেবার পার্টির সদস্যসংখ্যা দুই লাখ থেকে বেড়ে এখন প্রায় সাত লাখ। আবার নির্বাচন ঘোষণা দেওয়ার মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ২৩ লাখের বেশি, যা অন্য যেকোনো নির্বাচনের আগে আগে ভোটার হওয়ার চেয়ে বেশি।
বামপন্থী নেতা করবিন ধনী-গরিব সবার জন্য সমান নাগরিক সেবার কথা বলছেন। তাঁর অভিযোগ, কনজারভেটিভ সরকার প্রাতিষ্ঠানিক কর ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করে ধনীদের হাতে আরও সম্পদ তুলে দিয়েছে। অন্যদিকে কষ্টে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণের খরচ জোগাতে প্রাতিষ্ঠানিক কর ২৬ শতাংশে উন্নীত করবেন।
এবার তরুণ ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল প্রচারে নেমেছে লেবার। তারা ভোটের দিনের জন্য এক লাখ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিচ্ছে।
করবিনের জোয়ার ঠেকাতে থেরেসা মে গত মঙ্গলবার আবার নতুন করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। তিনি করবিনকে একজন দুর্বল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করে বলেন, করবিনকে দিয়ে ইইউর সঙ্গে ব্রেক্সিট সমঝোতা সম্ভব নয়। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে একমাত্র নিজেকে যোগ্য বলে দাবি থেরেসার। মূলত অন্য সব বিষয় বাদ দিয়ে নির্বাচনী বিতর্ককে কেবল ব্রেক্সিটমুখী রাখতে চাইছে ক্ষমতাসীনেরা। কারণ, মানুষের নিত্য বিষয় নিয়ে করবিনকে টেক্কা দেওয়ার মতো কিছুই থেরেসার ঝুলিতে নেই।
সূত্র: প্রথম আলো অনলাইন













