অভিবাসন নীতি বদলে যুক্তরাজ্য ছাড়তে পারে ৫০ হাজার নার্স

173

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত অভিবাসন নীতির কারণে প্রায় ৫০ হাজার নার্স দেশ ছাড়তে পারেন। নতুন নিয়মে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে দশ বছর করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা খাত এনএইচএস (NHS) সবচেয়ে বড় কর্মী সংকটে পড়বে বলে গবেষণা বলছে। নার্সদের সংগঠন আরসিএন (RCN) এই পদক্ষেপকে অনৈতিক ও রোগীর সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছে। সরকার দ্রুত এই প্রস্তাবনা বাতিল না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অ্যান্ড্রু গ্রেগরির প্রতিবেদন অনুসারে, সরকার অভিবাসন কমাতে বিদেশী কর্মীদের দক্ষতা এবং ইংরেজি ভাষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি স্থায়ী বসবাসের জন্য (ILR) আবেদনের সময়কাল ১০ বছর করার পরিকল্পনা করেছে। বর্তমানে পাঁচ বছর কাজ করার পরই এই মর্যাদা পাওয়া যায়। এই কড়াকড়ি মূলত নেট মাইগ্রেশন কমানো এবং নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে পার্টির উত্থান মোকাবিলা করার একটি চেষ্টা। এর ফলে অর্থনীতির সব খাতের অভিবাসী কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্যসেবা খাতে।

রয়্যাল কলেজ অফ নার্সিং (RCN) এর একটি জরিপে এই কর্মীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা গেছে। গার্ডিয়ানে প্রকাশিত ওই জরিপে অংশ নেওয়া ৫ হাজারের বেশি অভিবাসী নার্সের ৬০ শতাংশই বলেছেন, এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে থাকার তাদের পরিকল্পনা খুব সম্ভবত প্রভাবিত হবে। হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৪৬ হাজারেরও বেশি নার্স স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্য ছাড়তে পারেন। ২০১১ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে ভিসাপ্রাপ্ত ৭৬,৮৭৬ জন নার্স এই পরিবর্তনের আওতায় আসবেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

আরসিএন এর সাধারণ সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী প্রফেসর নিকোলা রেঞ্জার এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, “এই প্রস্তাবগুলো কেবল অনৈতিক নয়, এগুলো আমাদের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। যে কোনো মন্ত্রী যিনি আমাদের স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা ব্যবস্থার সাফল্যের প্রতি আগ্রহী, তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের সময়কাল বাড়ানোর জন্য এগিয়ে যাবেন না।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যখন দেশীয় নার্সিং কর্মী বাড়াতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন হাজার হাজার দক্ষ নার্সকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রফেসর রেঞ্জার এই প্রস্তাবকে অভিবাসী নার্সিং কর্মীদের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মহামারীর সময়ে ব্যক্তিগত ত্যাগ স্বীকার করে অনেকেই যুক্তরাজ্যে এসেছিলেন, এখন তাদের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি সরকারকে দ্রুত এই পরিকল্পনা বাতিল করতে এবং আবেদন ফি কমানোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে, সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নেট মাইগ্রেশন অবশ্যই কমাতে হবে, তবে নতুন বসতি মডেলে অবদান রাখার ভিত্তিতে সময় কমানোর সুযোগ থাকবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুতই শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হবে।

#যুক্তরাজ্য_অভিবাসন #নার্সিং_সংকট #এনএইচএস_কর্মসংস্থান #আরসিএন_জরিপ #অভিবাসী_কর্মী