সাইফ হাসান: ছোট নৌকায় আসা সব আশ্রয়প্রার্থীকে ফেরত পাঠানোর নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে ব্রিটেনে।রিফর্ম পার্টির পরিকল্পনাকে ‘অন্তর্মুখী ও হঠকারী’ বলে সমালোচনা করেছেন ইয়র্কের আর্চবিশপ স্টিফেন কট্রেল।জবাবে রিফর্মের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস অভিযোগ করেছেন, চার্চ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে।তিনি বলেছেন, অভিবাসন নীতিতে ধর্মীয় নেতাদের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।
গত সপ্তাহে রিফর্ম নেতা নাইজেল ফারাজ ঘোষণা দেন, ব্রিটেন ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস থেকে বেরিয়ে যাবে এবং ফ্রান্স থেকে ছোট নৌকায় আসা সব মানুষকে ফেরত পাঠানো হবে। এতে আফগানিস্তান কিংবা ইরিত্রিয়ার মতো দেশেও মানুষকে পাঠানো হতে পারে।
কট্রেল স্কাই নিউজে বলেন, “এভাবে স্বল্পমেয়াদি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না। বিশ্বব্যাপী যে সংকট চলছে, ফারাজ তার কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিচ্ছেন না।”
প্রতিক্রিয়ায় টাইস বলেন, “আমি চার্চকে সম্মান করি, আমি ঈশ্বরে বিশ্বাস করি। কিন্তু আর্চবিশপের কাজ আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতিতে হস্তক্ষেপ করা নয়।” তিনি কট্রেলের সব সমালোচনা “ভুল” বলেও দাবি করেন।
ফারাজের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় শুধু আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোই নয়, বরং দেশে আগে থেকে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের খুঁজে বের করে বহিষ্কারের কথাও বলা হয়েছে। তবে এ নিয়ে খরচ, কার্যকারিতা ও শিশু ও নারী আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপারে রিফর্ম পার্টির অবস্থান স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন জানিয়েছেন, সরকার এই মেয়াদের শেষের আগেই ধাপে ধাপে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলগুলো বন্ধ করতে চায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হঠাৎ বন্ধ করলে শত শত মানুষ রাস্তায় বসবাস করতে বাধ্য হবে।
এছাড়া তিনি দুই-সন্তান ভাতা সীমা তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা আর্চবিশপ কট্রেলের মতে শিশু দারিদ্র্য বাড়াচ্ছে। ফিলিপসন বলেন, “আমাদের দেশে এত বেশি শিশু দারিদ্র্যে বড় হচ্ছে দেখে আমি লজ্জিত। এটিই পরিবর্তনের জন্য রাজনীতিতে আসার অন্যতম কারণ।”















