যুক্তরাজ্যে নাগরিক না হলে মিলবে না সরকারি সুবিধা

140

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের নিয়ম আমূল পরিবর্তন করছে সরকার। নতুন নিয়মে নাগরিকত্ব না পেলে মিলবে না কোনো সরকারি সুবিধা বা সামাজিক আবাসন। ছোট নৌকায় আগতদের স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে ৩০ বছর পর্যন্ত। এমনকি হেলথ ওয়ার্কারদেরও সুবিধা নেওয়ার কারণে অপেক্ষা করতে হতে পারে ২৫ বছর। শরণার্থী কাউন্সিল এই পদক্ষেপকে ব্যয়বহুল এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী বলে আখ্যায়িত করেছে।

স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি এই কঠোর অভিবাসন নীতি ঘোষণা করেছেন। তার নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে অভিবাসীরা স্থায়ীভাবে বসবাসের মর্যাদা (সেটেলমেন্ট) পাওয়ার পরই কেবল সরকারি সুবিধা ও সামাজিক আবাসন পাওয়ার যোগ্য হবেন, যা বর্তমানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সঙ্গেই পাওয়া যেত। নতুন নীতি কার্যকর হলে, ‘বোরিসওয়েভ’ নামে পরিচিত ৬ লক্ষাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ও তাদের পরিবার যদি কোনো সুবিধা দাবি করে থাকে, তবে তাদেরও স্থায়ী বসবাসের জন্য ২৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এই নীতি এমন এক সময় আসলো যখন লেবার পার্টির ওপর নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকে পার্টির জনমত জরিপে চাপ বাড়ছে। এদিকে হাউস অফ কমন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্র সচিব মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভূতপূর্ব সংখ্যক আগমনের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই দেশে চিরতরে স্থায়ী হওয়া কোনো অধিকার নয়, বরং একটি বিশেষ সুবিধা। আর এটি অবশ্যই অর্জন করতে হবে।”

মে মাসে সরকারের ইমিগ্রেশন হোয়াইট পেপারে ঘোষিত এই পরিকল্পনায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদনের অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য স্বেচ্ছাশ্রম, ভালো ইংরেজি দক্ষতা এবং সরকারি সুবিধা না নেওয়ার মতো শর্ত পূরণের মাধ্যমে দ্রুত নাগরিকত্বের সুযোগও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ভিসা ওভারস্টেকারী এবং ছোট নৌকা বা লরিতে আগতদের স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত। তবে এনএইচএস-এ কর্মরত ডাক্তার ও নার্সরা পাঁচ বছরে এবং উচ্চ উপার্জনকারী ও উদ্যোক্তারা মাত্র তিন বছরে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

শরণার্থী কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষগুলোকে এই নীতি তিন দশকের অস্থিরতা ও চাপের মধ্যে ফেলে দেবে। তিনি উল্লেখ করেন, “স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করার সুযোগ মানুষকে ট্রমা থেকে সেরে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু স্থায়ী বসবাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে কেবল ব্যয়বহুল আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাড়বে এবং মানুষ অনিশ্চয়তায় থাকবে।”

#যুক্তরাজ্য_অভিবাসন #শাবানা_মাহমুদ #অভিবাসী_সুবিধা #নাগরিকত্ব_নীতি #শরণার্থী_কাউন্সিল #লেবার_পার্টি