সাইফ হাসান: সাঁতার না জানায় নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে মা*রা গেছে বারো বছর বয়সী এক কিশোর। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাশায়ারের রিবল নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে নেমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয় জুনিয়র স্লেটার নামের ওই বালক। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করলেও শুরুতে বন্ধুরা ভেবেছিল সে নিছক মজা করছে। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বড় কিশোরেরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে শুনানি শেষ করেছে আদালত।
ল্যাঙ্কাশায়ারের রিবচেস্টারে মে মাসের এক উষ্ণ দিনে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। তীব্র গরমের মধ্যে ওই এলাকায় নদীপাড়ে জড়ো হয়েছিল প্রায় পঞ্চাশ জন কিশোর-তরুণ। সেখানেই বন্ধুদের সাথে নেমেছিল বারো বছর বয়সী জুনিয়র স্লেটার। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও নদীর অগভীর অংশে কেবল পা ভেজানোর উদ্দেশ্যে সে পানিতে নামে বলে জানায় তদন্তকারীরা।
তদন্ত কর্মকর্তা মার্ক হাচিনসন জানান, নদীর তলদেশের প্রবল স্রোত জুনিয়রকে ধীরে ধীরে গভীর পানির দিকে টেনে নিয়ে যায়। সে সময় হাত তুলে বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও সঙ্গীরা ভেবেছিল সে রসিকতা করছে। পরিস্থিতি যখন সত্যিই ভয়াবহ রূপ নেয়, তখন সে পানির নিচে তলিয়ে যায়। উপস্থিত বড় কিশোরেরা সঙ্গে সঙ্গে ডুব দিয়ে খোঁজাখুঁজি করলেও নদীর পানির ঘোলাটে অবস্থার কারণে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রেস্টন করোনার্স কোর্টের শুনানিতে সহকারী করোনার রিচার্ড টেলর জানান, এটি ছিল সম্পূর্ণ একটি দুর্ঘটনা। নদীর মাঝখানে গভীরতা অনেক বেশি এবং স্রোতও ছিল অস্বাভাবিক তীব্র। শুনানিতে জুনিয়রের বোন শ্যানন স্লেটার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তারা প্রতিদিন এই দুঃসহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছেন এবং ঘুম ভাঙলে মনে হয় পুরো ঘটনাটি কোনো দুঃস্বপ্ন। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য পানিতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর জোর দাবি জানানো হয়েছে।
#aknews #onebanglanews #যুক্তরাজ্য #নদীদুর্ঘটনা #আন্তর্জাতিকসংবাদ















