শিক্ষার্থীদের পরস্পর শারীরিক স্পর্শ নি*ষিদ্ধ করে সমালোচনায় ব্রিটিশ স্কুল

29

সাইফ হাসান: শিক্ষার্থীদের পরস্পরের মধ্যে যে কোনো শারীরিক স্পর্শ নি*ষিদ্ধ করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের একটি বিদ্যালয়। এসেক্সের ফিলিপ মোরান্ট স্কুলের এই নির্দেশনার পর বন্ধুদের জড়িয়ে ধরা কিংবা হাই-ফাইভ করার কারণে শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকেরা। মানসিক বিকাশে এমন নিয়মের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উল্লেখ করে অনলাইনে পিটিশন চালু করা হয়। প্রবল আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত নিজেদের কঠোর অবস্থান পর্যালোচনা করার ঘোষণা দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাজ্যের কলচেস্টারে অবস্থিত ফিলিপ মোরান্ট স্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এই বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়, ক্যাম্পাসে সহপাঠীদের মধ্যে কোনো প্রকার শারীরিক সংস্পর্শ থাকা যাবে না। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ যেমন করমর্দন বা জড়িয়ে ধরার জন্যও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাড়তি সময় স্কুলে আটকে রাখার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে একটি অনলাইন পিটিশন দায়ের করা হয়, যেখানে বলা হয় স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্মতির ভাববিনিময় কেড়ে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেগীয় সুস্থতার ওপর আঘাত আনা হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকেরা জানান, একটি সাধারণ সমাবেশে হঠাৎ এমন কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া একেবারেই অনুচিত হয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্টেফানি নিল জানিয়েছেন, তাদের প্রায় ১ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য। গত মেয়াদে অতিরিক্ত শারীরিক মেলামেশার কারণে পড়ালেখায় ব্যাঘাত ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এই নিয়মটি চালু করা হয়েছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন যে শিক্ষার্থীদের ইতিবাচকভাবে কুশল বিনিময়ের সুযোগ থাকা জরুরি। এ কারণে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন এবং বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হবে বলে তিনি জানান।

যুক্তরাজ্যের শিক্ষা বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে স্কুল প্রধানদের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সরকার সবসময় সমর্থন করে। তবে এর আগেও ২০২৩ সালে চেমসফোর্ডের একটি স্কুলে একইভাবে জড়িয়ে ধরা ও হাত ধরা নি*ষিদ্ধ করার পর অভিভাবকদের তীব্র অসন্তোষের মুখে প্রধান শিক্ষক সেই কড়া অবস্থান থেকে সরে এসেছিলেন।

#aknews #onebanglanews #যুক্তরাজ্য #শিক্ষা #আন্তর্জাতিকসংবাদ