রোনালদোকে নিয়েই পর্তুগালের নেশনস লিগের দল

28

শেষের কবিতা নাকি আরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা?

২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর গুঞ্জনটা বাতাসে ভেসেছিল জোরেশোরে। বয়সের বয়ামে তখন জমা পড়েছে ৪১টি বসন্ত। তিনি নিজেও বলেছিলেন, এটাই হয়তো বিশ্বকাপে আমার শেষ ম্যাচ। গত মাসেই ‘ভোগ’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কথা বলেছেন আরও সরাসরি, ‘হয়তো ফুটবলে এটাই আমার শেষ বছর।’

তাহলে কি আর পর্তুগালের সেই পরিচিত সাত নম্বর জার্সি গায়ে তাঁকে দেখা যাবে না? উয়েফা নেশনস লিগের দল ঘোষণার আগে এই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছিল লিসবনের অলিগলিতে।

সব জল্পনা আর গুঞ্জনে জল ঢেলে দিলেন নতুন কোচ জর্জ জেসুস। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীকে রেখেই প্রথমবারের মতো দল ঘোষণা করেছেন জেসুস। তার মানে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে এখনই ‘আলবিদা’ বলছেন না রোনালদো। নতুন কোচের কাছে তাঁর ভূমিকা কী? প্রশ্নটা উঠছিলই। জেসুসের উত্তর সহজ, ‘ডাকা হয়েছে যাঁদের, সবাই আমার পরিকল্পনার অংশ। সবার ওপরই আমার সমান অধিকার।’

সৌদি আরবের আল নাসরে একসঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে এই দুজনের। গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে লিগ শিরোপাও জিতেছেন তাঁরা। সেই পরিচয় আছে, সেই বোঝাপড়াও। তবু জেসুস কোনো আলাদা নিয়ম বানাতে রাজি নন। তাঁর কথা, ‘ভালো খেললে খেলবে। ভালো না খেললে খেলবে না। সবার জন্য নিয়ম এক।’

এটাই হয়তো রোনালদোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কিংবা সবচেয়ে বড় প্রেরণা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো। গোল ১৪৬টি। সংখ্যাটা নিজেই এক ইতিহাস। কিন্তু তিনি থেমে নেই। এখন তাঁর সামনে আরেকটা মাইলফলক, ক্যারিয়ারে ১০০০ গোল। এখন পর্যন্ত করেছেন ৯৭৯টি।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোএএফপি

এই মাইলফলক নিয়ে জেসুসের ভাবনা বাস্তববাদী, ‘আমি মনে করি, পর্তুগালের হয়ে নয়, আল নাসরের হয়েই তাঁর হাজারতম গোলটা আসার সম্ভাবনা বেশি।’

বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়া লাৎসিওর রাইটব্যাক নুনো তাভারেস ফিরেছেন জেসুসের স্কোয়াডে। জায়গা পেয়েছেন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের ফাবিও সিলভাও। গালাতাসারাইয়ের হয়ে চলতি মৌসুমে মাত্র এক ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেলেও জেসুসের আস্থা ঠিকই পেয়েছেন রাফায়েল লিয়াও। একইভাবে এসি মিলানের রেকর্ড দলবদল হয়েও মাত্র এক গোল করা গনসালো রামোস আছেন নতুন কোচের ট্যাকটিক্যাল নকশায়।

নেশনস লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে ২৪ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে ওয়েলসের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। তিন দিন পর নরওয়ের মাঠে খেলা। এরপর আগামী ১ অক্টোবর ডেনমার্ক সফর। ৪ অক্টোবর আবার ঘরের মাঠে নরওয়ে।