আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আজেন্টিনার নতুন প্রেসিডেন্ট হলেন বিরোধীদলীয় মধ্য-বাম প্রার্থী আলবের্তো ফার্নান্দেজ।
প্রয়োজনীয় ৪৫ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাক্রিকে হারালেন আলবের্তো ফার্নান্দেজ। খবর বিবিসির
দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকটের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হলেন তিনি।
রোববার রাতে ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পরই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে যে ফার্নান্দেজ জয়লাভ করতে যাচ্ছেন।
বিবিসি জানায়, ৯০ শতাংশ ভোট গণনার পরই দেখা যায় ফার্নান্দেজ ৪৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন আর মাক্রি পেয়েছেন ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ ভোট।
প্রথম পর্বের ভোটে জয় পেতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ৪৫ শতাংশ ভোট অথবা ৪০ শতাংশ ভোট ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ১০ শতাংশ ভোটে এগিয়ে থাকতে হয়।
তাই ওই রাতেই পরাজয় মেনে নিয়ে ফার্নান্দেজকে অভিনন্দন জানান মাক্রি।
সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসা সংবাদের ভিত্তিতে জানা গেছে, গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা।
দেশটির জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। ভঙ্গুর এ অর্থনীতিকে ঠিকভাবে সামাল দিতে পারছিলেন না ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাক্রির সরকার।
যে কারণে দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচন-পূর্ব জরিপেও দেখা গেছে, মাক্রির জনপ্রিয়তা থেকে এগিয়েছিলেন ফার্নান্দেজ। এর পর গত আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বী ফার্নান্দেজের কাছে হেরেছিলেন মাক্রি।
দেশটির চলমান অর্থনৈতিক উদ্বেগই ফার্নান্দেজের পক্ষে ফল নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন দেশটির রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
ফার্নান্দেজ প্রেসিডেন্ট হওয়ায় আজেন্টিনা নতুন যুগে প্রবেশ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইনরা।
ফার্নান্দেজের জয়ে উল্লসিত সমর্থক ৩৫ বছর বয়সী পাওলা ফিওরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, জনগণের কথা ভেবে এমন একটি সরকার ফিরে এসেছে। আমরা এতে আনন্দিত ও আশাবাদী। যদি এখন দরিদ্র ও বেকারত্ব ঘুচে সেই অপেক্ষায় আছি।
অন্য একজন জানান, বর্তমানে আর্জেন্টিনার প্রায় প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। আর এ সংখ্যাটি বিপুল। আমরা এ পরিস্থিতির উন্নয়ন চাই। মৌলিক চাহিদার নিশ্চয়তা চাই। সে ক্ষেত্রে আলবের্তো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে উঠবেন বলে বিশ্বাস করছে জনগণ।
রয়টার্স বলছে, ফার্নান্দেজ নির্বাচনে জয়লাভ করেছে- প্রচার হতেই ফল উদযাপনের উদ্দেশ্যে রাতেই ফার্নান্দেজের নির্বাচনী সদরদফতরের সামনে লাখো লোকের সমাগম ঘটে।
পরে জনতার উদ্দেশ্যে ফার্নান্দেজ বলেন, দেশের শোচনীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবেলায় আমি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাক্রির সঙ্গে ‘সম্ভাব্য সব উপায়ে’ সহযোগিতা করব।
এদিকে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে নিয়মতান্ত্রিক ও আনুষ্ঠানিকভাবে ফার্নান্দেজের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনায় বসবেন মাক্রি।















