ঢাকা সংবাদদাতা: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। দীর্ঘ বিচারিক কাজ শেষ করে ১৪ বছর পর এ রায় দেয়া হচ্ছে।
এই রায়কে ঘিরে দেশব্যাপী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কেউ যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য দেশজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ নাজিমুদ্দিন সড়কে অবস্থিত অস্থায়ী আদালত এলাকায় তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হুজি নেতা মুফতি হান্নান, সাবেক মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুরুজ্জামান বাবরসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ বিচারকাজ শেষে বুধবার ওই ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার রায় ঘোষণা হবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকায় ১ নম্বর অস্থায়ী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুর উদ্দিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এদিন ধার্য করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কোন হুমকি নেই। তবু কোনও স্বার্থান্বেষী মহল যাতে কোন সহিংসতা না চালাতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের নজরদারি রয়েছে। এ রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার চেষ্টা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। কোনও ধরনের অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় মূলত টার্গেট ছিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ওই হামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও, গুরুতর আহত হন তিনি।
এছাড়া এই হামলায় মহিলাবিষয়ক সভানেত্রী আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডে আহত হন শত শত নেতাকর্মী, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। সেদিনের সেই দুঃসহ স্মৃতি আর শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিনটারের যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে আছেন অনেকে।















