এআই বিপ্লবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

21

সাইফ হাসান: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বেশ কিছু ঘাটতি দেখছেন। বিশেষ করে গবেষণা অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশ এখনো অনেকটা পিছিয়ে আছে। তবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে এআই নিয়ে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেটা সায়েন্স ও মেশিন লার্নিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু হলেও উচ্চ ক্ষমতার কম্পিউটিং সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি এখনো বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

দেশের ব্যাংকিং, ই-কমার্স ও সাইবার নিরাপত্তায় এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেশি কোম্পানিগুলো বিদেশি সফটওয়্যার বা মডেলের ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতির উপযোগী নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরির কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে যা উদ্বেগের বিষয়।

এআই প্রযুক্তির উন্নতির জন্য মানসম্মত ডেটাসেট সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কিন্তু বাংলাদেশের ডেটা ব্যবস্থাপনা এখনো দুর্বল। বিশেষ করে বাংলা ভাষার ভয়েস রিকগনিশন বা চ্যাটবট তৈরির জন্য পর্যাপ্ত এবং উন্মুক্ত ডেটা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এআইনির্ভর সাইবার ঝুঁকি ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে তৈরি পোশাক শিল্প এবং কৃষি খাতে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশ যদি দ্রুত দক্ষ জনবল তৈরি এবং ডেটা অবকাঠামো উন্নত করতে পারে তবেই এই বিপ্লবের সুফল পাওয়া যাবে। আয়ারল্যান্ড প্রবাসী গবেষক সাদিয়া ইসলাম এই রূপান্তরের জন্য সমন্বিত বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

#এআইবাংলাদেশ #প্রযুক্তিবিপ্লব #ভবিষ্যৎবাংলাদেশ #aknews #onebanglanews