পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর রাজধানী ওয়াগাদুগুরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলাকারীরা ফরাসি দূতাবাস এবং সেনা সদর দপ্তর লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ছয় হামলাকারী ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্যসহ নিহত হয়েছেন ১৬ জন। তবে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম এ সংখ্যা আরো বেশি বলে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সরকারি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনীর সদর দফতর লক্ষ্য করে জঙ্গি কায়দায় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য ও ছয়জন হামলাকারীসহ ১৬ জন নিহত হয়েছেন।
দেশটির সেনাবাহিনীর মেডিকেল প্রধান কর্নেল আমাদু কাফানদুল বলেন, এই হামলায় আরও অন্তত ৭৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর মুখোশ পরিহিত বন্দুকধারীরা দেশটির সেনাবাহিনীর সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রথম বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা রক্ষীরা এলাকাটি ঘিরে ফেললে আরেকটি বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলের পাশেই ফ্রান্স দূতাবাস। ওই দূতাবাসের পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থিত নাগরিকদের সতর্ক করেছে মার্কিন দূতাবাসও। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশগুলোর মতো বুর্কিনা ফাসোতে জঙ্গি সংগঠনগুলো ব্যাপক সংক্রিয়। এর আগের বছরের আগস্টে উয়াগাদুগুর একটি রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলায় অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি হয়। এছাড়া ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে অপর এক রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন অন্তত ৩০ জন। পরে হামলার দায় স্বীকার করে আল-কায়েদা ইন দ্য ইসলামিক মেঘরেব নামে জঙ্গি গোষ্ঠী (একিউআইএম)।
এদিকে ফরাসি এক সূত্র বিবিসিকে জানায় বুরকিনা ফাসোর ফরাসি দূতাবাসের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হামলার পেছনে ঠিক কারা জড়িত তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে দেশটির তথ্যমন্ত্রী রেমিস ফুলগেন্স জানান। সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই হামলাকে তিনি ‘বড় রকমের সন্ত্রাসী হামলা’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি জানায়, শুধু সেনা সদরেই ২৮ জন নিহত হয়েছে। যদিও সংখ্যাটি এখনো নিশ্চিত নয় বলে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।















