আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গত মাসে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলে নম্রিতা চান্দানি নামের এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। নম্রিতা লারকানার বিবি আসিফা ডেন্টাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রী ছিলেন। ওই ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ডেন্টাল পড়ুয়া ওই হিন্দু ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তা মানতে নারাজ ছাত্রীর পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, নম্রিতাকে খুন করা হয়েছে। এদিকে ওই ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নয়া মোড় নিয়েছে। তদন্তে নম্রিতার পোশাক ও শরীর থেকে সন্দেহভাজন এক পুরুষের ডিএনএ উদ্ধার হয়েছে।
নম্রিতার পরিবারে দাবি, তাকে খুন করা হয়েছে। এই মর্মে একটি এফআইআরও দায়ের করেছে পরিবার।
এদিকে, ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে ৩২ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে ওই ছাত্রীর দুজন সহপাঠীও রয়েছেন।
নম্রিতার বাড়ি সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকি জেলায়। ওই মাসেই হযরত মোহাম্মদ (সা.)কে অপমান করার অভিযোগে এক হিন্দু শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরই শুরু হয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা।
লারকানা জেলার পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ বঙ্গস জানান, ফরেনসিক তদন্তে নম্রিতার মরদেহ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই হত্যা ও ধর্ষণের দিকটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নম্রিতার ভাই করাচির একটি হাসপাতালে চিকিৎসক। তাঁর অভিযোগ, নম্রিতার গলা ও হাতের জখম থেকে বোঝা যাচ্ছে যে সে আত্মহত্যা করেনি। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে, কয়েকদিন আগে একটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিচার বিভাগীয় তদন্তের ভার নেওয়ার জন্য লারকানা জেলা বিচারকের কাছে আবেদন জানায়। কিন্তু মৃত্যুর তদন্তভার নিতে অস্বীকার করেন স্থানীয় আদালতের ওই বিচারক।
একটি সূত্র বলছে, অজ্ঞাত পরিচয় লোকের কাছ থেকে হুমকি পেয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলা বিচারক।















