শিক্ষার্থীদের খোলা পানির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করলেন পানি নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার বিশেষজ্ঞরা
টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা পপলার বাথসে গত বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর এক বিশেষ জল নিরাপত্তা ও পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ বিষয়ক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা উন্মুক্ত জলাশয় বা খোলা পানিতে থাকা বিভিন্ন অদৃশ্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে পারে। এর মধ্যে ছিল ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কা বা ‘কোল্ড-ওয়াটার শক’, পানির প্রবল স্রোত এবং পানির নিচে থাকা বিভিন্ন বিপজ্জনক বস্তু। কীভাবে নিজের এবং অন্যদের নিরাপদ রাখা যায়, জরুরি পরিস্থিতিতে কী করণীয় এবং সাঁতার শেখা কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা, সে বিষয়েও তাদের ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়াটার সেফটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সুইম ইংল্যান্ড -এর অ্যাডাম গোয়মার, মেরিন পুলিশের র্যাচেল বেকফোর্ড ও নিকি প্রিন্স এবং লন্ডন ফায়ার ব্রিগেডের টিম কাটবিল অংশ নেন। তারা শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং সমুদ্রসৈকত, নদী, খাল, হ্রদ ও সুইমিং পুলে সাঁতার কাটার সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো তুলে ধরেন।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এ্যাকুয়েটিক্স ম্যানেজার জ্যাকি আয়রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন জাতীয় পর্যায়েও জল নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও তরুণদের পানিতে দুর্ঘটনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পাশাপাশি উষ্ণ আবহাওয়া এবং খোলা পানির স্থানগুলোতে মানুষের বাড়তি উপস্থিতি জল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা ও জরুরি পরিস্থিতিতে কী করণীয়, সে বিষয়ে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।
অনুষ্ঠানটি বারার বাসিন্দাদের পানির প্রতি আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তা বাড়াতে ‘বি ওয়েল’-এর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। স্কুল ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ‘বি ওয়েল’ আরও বেশি শিশুকে সাঁতার শেখা, প্রয়োজনীয় জল নিরাপত্তা দক্ষতা অর্জন এবং সারাজীবন নিরাপদে পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “সম্প্রতি পানিসংক্রান্ত একটি মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছিল। এ ধরনের ঘটনা একটি পরিবার এবং বৃহত্তর কমিউনিটির ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমি সরাসরি দেখেছি। এ কারণেই আমি টাওয়ার হ্যামলেটসে জল নিরাপত্তাকে সবসময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছি। নদী, ডক, খাল ও জলাধারবেষ্টিত একটি বারায় আমাদের বাসিন্দা ও তরুণদের জন্য পানির আশপাশে কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “সাঁতার শেখা, পানির প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং পানির সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা, যা জীবন রক্ষায় সহায়তা করতে পারে। আরও বেশি শিশুকে এসব দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে সহায়তা করতে এবং আমাদের বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতে পারি।”
বিশেষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলের লেজার, কালচার অ্যান্ড ট্যুরিজমের ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর মিনারা খাতুন। তিনি বলেন, “এই সচেতনতামূলক আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো শিশুদের পানির ভেতরে ও আশপাশে নিরাপদ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও উৎসাহ দেওয়া। জল নিরাপত্তা, জরুরি সেবা এবং সাঁতার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে একসঙ্গে নিয়ে আসার মাধ্যমে আমরা তরুণদের পানির ঝুঁকি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে এবং বিপদের মুখে পড়লে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, তা বুঝতে সহায়তা করতে পারি।”
তিনি বলেন, “খোলা পানি অনেক সময় অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক হতে পারে। ঠান্ডা পানির আকস্মিক ধাক্কা, প্রবল স্রোত এবং পানির নিচে থাকা বিভিন্ন বস্তু আত্মবিশ্বাসী সাঁতারুদের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ বিষয়ে শিক্ষা ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
“Be Well-এর মাধ্যমে আমরা আরও বেশি শিশুকে সাঁতার শেখানো, পানির প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় জল নিরাপত্তা দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্কুল ও আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, তরুণরা যেন পানিকে নিরাপদভাবে উপভোগ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সহায়তা পায়।”















