যুক্তরাজ্যে এ বছর মর্টগেজ সুদের হার চারবার বাড়তে পারে

48

আর্থিক বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে এ বছর যুক্তরাজ্যে ঋণের সুদের হার চারবার বাড়তে পারে, যা ৩.৭৫% থেকে বেড়ে ৪.৭৫%-এ পৌঁছাতে পারে।

এতে মর্টগেজ গ্রাহকদের ওপর বড় চাপ পড়বে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান হামলার পর যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে পারে।

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন যে বছরের শেষের আগে চারবার করে ০.২৫% হারে সুদ বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করবে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড।

গত সপ্তাহে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মুদ্রানীতি কমিটি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখলেও ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে তা বাড়াতে হতে পারে, কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে মুদ্রাস্ফীতি ৩%-এর ওপরে যেতে পারে।

তবে গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেছেন, বাজার হয়তো সুদ বাড়ানোর বিষয়ে কিছুটা অতিরিক্ত প্রত্যাশা করছে।

সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় স্থির সুদের মর্টগেজের খরচ বেড়ে গেছে, যা আবাসন ঋণ বাজারে “বিপর্যয়কর প্রভাব” ফেলছে বলে জানিয়েছে মানিফ্যাক্টস।

সোমবার দুই বছরের স্থির সুদের মর্টগেজ হার দাঁড়িয়েছে ৫.৪৩%, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর পর সর্বোচ্চ।

বাজার থেকে শত শত মর্টগেজ পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, ফলে উপলব্ধ পণ্যের সংখ্যা কমে গেছে।

তবে কিছু বিশ্লেষক চারবার সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গোল্ডম্যান স্যাকস মনে করছে, ২০২৬ সালজুড়ে সুদের হার ৩.৭৫%-এই থাকতে পারে।

তারপরও বিনিয়োগকারীরা ক্রমেই নিশ্চিত হচ্ছেন যে, উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংককে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, ফলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক শেয়ারবাজার ও সোনার দাম কমেছে।

যুক্তরাজ্যের মুদ্রার মান কমেছে এবং সরকারি বন্ডের সুদের হার ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং মন্দার ঝুঁকি বাড়বে।