সাইফ হাসান: স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনে ট্যাক্সি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ইউকেতে আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। জানা গেছে, শুধুমাত্র এই পরিষেবার জন্য হোম অফিস বছরে প্রায় ১৫.৮ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে থাকে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের জরুরি চিকিৎসার জন্যেও বাস বা অন্য গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। তবে, দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহনে বিনামূল্যে যাতায়াতের যে দাবি জানিয়ে আসছে বিভিন্ন সংগঠন, সরকার তা এখনো প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিবরণ অনুযায়ী, সরকারি ব্যয়ের এই বিষয়টি সামনে আসে বিবিসির এক অনুসন্ধানে। তদন্তে দেখা যায়, কিছু আশ্রয়প্রার্থী দীর্ঘ দূরত্বে চিকিৎসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ট্যাক্সি ব্যবহার করতেন। এর মধ্যে একজন ৬০০ পাউন্ড খরচ করে ২৫০ মাইল ট্যাক্সিতে চড়ে জিপি (GP) দেখতে গিয়েছিলেন। এমন দীর্ঘ যাত্রার কারণ হলো, অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে চিকিৎসার মাঝেই হঠাৎ অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়, যার মধ্যে কেমোথেরাপির মতো চলমান চিকিৎসাও রয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞার পর এখন থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের বাস, ট্রেন বা অন্যান্য বিকল্প পরিবহণ ব্যবহার করতে হবে। তবে, সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি বাসের পাস দেওয়ার জন্য লড়াই করে আসছে, যাতে হাঁটা বা ট্যাক্সি নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় না থাকলে তারা যাতায়াত করতে পারে। নাগরিক সংগঠন সিটিজেনস ইউকে ২০২৩ সাল থেকে ২৫টি নাগরিক সমাজের জোট নিয়ে সরকারের কাছে এই আবেদন জানাচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ট্যাক্সি ব্যবহারের সুযোগ ‘ব্যতিক্রমী, প্রমাণসাপেক্ষ ক্ষেত্রে’ কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শারীরিক অক্ষমতা, গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত বিশেষ প্রয়োজন। এই ধরনের যাত্রার জন্য হোম অফিসের অনুমোদন আবশ্যক।
রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এনভার সলোমন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘এখানে যোগ্যতার মাত্রা খুব উঁচু করে সেট করার ঝুঁকি রয়েছে।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমান ট্যাক্সি বিলটি আশ্রয়প্রার্থীদের অপব্যবহারের ফল নয়, বরং এটি সরকারি অদক্ষতা এবং দুর্বল চুক্তি ব্যবস্থাপনার ফল।
স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ বলেছেন, তারা কনজারভেটিভ সরকারের রেখে যাওয়া এমন চুক্তিগুলো বাতিল করছেন, যা জনগণের করের কোটি কোটি টাকা নষ্ট করছিল। তিনি জানান, ‘আমি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য আশ্রয়প্রার্থীদের ট্যাক্সির অবাধ ব্যবহার বন্ধ করছি, শুধুমাত্র সবচেয়ে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এর অনুমোদন দেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো সামরিক সাইটগুলোর মতো বিকল্প আবাসনে স্থানান্তরের মাধ্যমে হোটেলগুলোতে থাকা সকল আশ্রয়প্রার্থীকে সরিয়ে দেওয়া, যার ফলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে।
#ইউকে_অভিবাসন #ট্যাক্সি_নিষেধাজ্ঞা #আশ্রয়প্রার্থী_ভাতা #হোম_অফিস_খরচ #গণপরিবহন















