সাইফ হাসান: হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের নির্বাসিত নেতা নাথান ল ইউকের অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে ব্রিটিশ সরকার তাদের সাবেক উপনিবেশের জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার থেকে সরে যেতে পারে। স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাবের পর ল বলেন, হংকংবাসীর প্রতি ব্রিটেনের যে নৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা যেন ভুলে না যাওয়া হয়। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, তাদের কথা ভাবা উচিত।
নাথান ল, যিনি ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং যার মাথার দাম ধার্য করা আছে, তিনি জানান, আশ্রয় আইনের প্রস্তাবিত পরিবর্তন হংকংবাসীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। চীনের কাছে হংকং হস্তান্তরের পর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসায় বহু মানুষকে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসতে হয়েছে।
তবে, একটি বিষয় এখনও অপরিবর্তিত আছে। ১৯৯৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে হংকংয়ে জন্মগ্রহণকারী এবং ব্রিটিশ ন্যাশনাল ওভারসিজ (BNO) স্ট্যাটাসের জন্য নিবন্ধিত ব্যক্তিরা এবং তাদের ওপর নির্ভরশীলদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পাঁচ বছরের অপেক্ষার সময়সীমা প্রভাবিত হবে না। ল, যিনি মূল চীন ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তিনি বলেন BNO স্ট্যাটাস নেই এমন বহু মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে নিজেদের ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি মনে করেন, ব্রিটেনের নৈতিক বাধ্যবাধকতা তাদের সবার প্রতি প্রযোজ্য।
স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ বলেছেন, এই পরিবর্তনগুলো ব্রিটেনকে ইউরোপের মধ্যে ‘সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত ও নির্বাচনমূলক’ স্থায়ী বসবাসের নিয়মের দেশে পরিণত করবে। এই কঠোর নিয়মগুলো বর্তমানে ইউকেতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি শুধু ভবিষ্যতে আগতদের জন্য, তা নিয়ে সরকারের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক চলছে। ল বলেন, স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়লে তার নিজের জীবনেও অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হবে এবং চীনা সরকারের পক্ষ থেকে যে ব্যক্তিগত হা*মলা ও চাপ আসছে, তা আরও বাড়বে।
নাথান ল ২০১৪ সালের ‘আমব্রেলা মুভমেন্ট’ বিক্ষোভের সময় সবার জন্য সার্বজনীন ভোটাধিকারের দাবিতে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে তিনি, জোশুয়া ওয়াং এবং অ্যাগনেস চাও মিলে রাজনৈতিক দল ‘ডেমোসিস্টো’ গঠন করেন। ২০১৯ সালের বিক্ষোভে এই তিনজনই প্রধান মুখ ছিলেন এবং বিদেশি প্রভাব খোঁজার অভিযোগে তারা প্রায়ই গ্রেফতারের লক্ষ্যবস্তু হতেন। হংকং কর্তৃপক্ষ ল-কে ধরার জন্য বর্তমানে ১ মিলিয়ন হংকং ডলার (প্রায় ১ লাখ পাউন্ড) পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
হোম অফিসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘হংকং থেকে আসা জনগণকে আশ্রয় এবং সহায়তা প্রদানের আমাদের অঙ্গীকারে আমরা অবিচল।’ তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ‘যাদের ওপর নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রমাণিত হবে, তাদের কাউকেই হংকংয়ে ফেরত যেতে বলা হবে না।’
#হংকং_শরণার্থী #নাথান_ল #ইউকে_অভিবাসন #BNO_ভিজা #রাজনৈতিক_আশ্রয়















