সাইফ হাসান: আইনি অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সময়সীমা বৃদ্ধি করায় স্কটল্যান্ডের সমাজসেবা খাত ‘মারাত্মক নেতিবাচক আ*ঘাতের’ মুখে পড়েছে। স্কটিশ কেয়ার নামের সংস্থাটি বলছে, এই পরিবর্তন ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয়’ আন্তর্জাতিক কর্মীদের স্কটল্যান্ডে আসতে নিরুৎসাহিত করবে। বর্তমানে ৫ বছর অপেক্ষার নিয়ম থাকলেও, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এখন তা ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ গত সপ্তাহে অভিবাসন নীতিতে একাধিক পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্রেক্সিট-পরবর্তী স্বাস্থ্য এবং সামাজিক পরিচর্যা ভিসায় আসা কর্মীদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১৫ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। স্কটিশ কেয়ার-এর প্রধান নির্বাহী ডোনাল্ড ম্যাকআস্কিল এই পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ম্যাকআস্কিল বলেন, স্কটল্যান্ডের পরিচর্যা খাত এমনিতেই কর্মীর তীব্র সংকটে ভুগছে এবং আন্তর্জাতিক কর্মীরা প্রবীণ ও দুর্বল নাগরিকদের সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি মনে করেন, কর্মীদের ১৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী বসবাসের জন্য অপেক্ষা করতে বাধ্য করলে এবং তাদের ভবিষ্যৎকে কঠিন শর্তের সঙ্গে বেঁধে দিলে স্কটল্যান্ডে আসতে প্রয়োজনীয় কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবেন।
গত বছরের স্কটিশ কেয়ার-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাদের ৬৬ শতাংশ সদস্যই বিদেশ থেকে সক্রিয়ভাবে কর্মী নিয়োগ করছে। কিছু এলাকায় আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগকৃত কর্মীরা প্রায় শতভাগ কর্মী সরবরাহ করেন। ম্যাকআস্কিল আরও উল্লেখ করেন যে, এই পরিকল্পনা স্কটল্যান্ডে থাকা বৈধ অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও আপনত্বের বোধকে ক্ষুন্ন করবে।
এই পদক্ষেপ স্কটল্যান্ডজুড়ে পরিচর্যা ও সহায়তা পরিষেবার গুণমান এবং স্থায়িত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ম্যাকআস্কিল সতর্ক করেন। তিনি স্কটিশ লেবার পার্টির কাছে যুক্তরাজ্যের লেবার সরকারের এই প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ জানানোর আর্জি জানিয়েছেন এবং এটিকে স্কটল্যান্ডের বিশেষ চাহিদার প্রতি ‘সংবেদনশীলতাহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। যদিও স্কটিশ লেবার পার্টি এই সংকটের জন্য স্কটিশ সরকারের ‘দুর্বল ব্যবস্থাপনা’ এবং ‘অবহেলা’কে দায়ী করেছে।
#স্কটিশকেয়ার #অভিবাসননীতি #কেয়ারওয়ার্কার #স্কটল্যান্ডসংকট #শাবানামাহমুদ















