সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে পরিবারভিত্তিক ছোট ব্যবসার ছদ্মবেশে প্রতারকরা এআই-তৈরি ছবি ও মিথ্যা গল্প ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। অনেকে দামি পোশাক ও গয়না কিনে পেয়েছেন সস্তা চীনা পণ্য। “C’est La Vie” ও “Mabel & Daisy” নামের দুটি ভুয়া অনলাইন দোকান নিয়ে শত শত অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, তারা সম্পূর্ণভাবে প্রতারিত বোধ করছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ক্রমেই বিপজ্জনক আকার নিচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের ঐতিহাসিক জুয়েলারি কোয়ার্টারে “C’est La Vie” নামে একটি দোকান দাবি করছে, এটি ইলিন ও প্যাট্রিক নামে এক দম্পতির ২৯ বছরের পুরনো পারিবারিক ব্যবসা। কিন্তু দোকানটির রিটার্ন ঠিকানা রয়েছে চীনে। ভোক্তা সংগঠন “Which?” জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এখন প্রতারকদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে।
অন্যদিকে “Mabel & Daisy” নামের আরেকটি অনলাইন দোকান নিজেদের মা-মেয়ের ব্যবসা হিসেবে উপস্থাপন করছে, যা ব্রিস্টলে অবস্থিত বলে দাবি করা হলেও আসলে তাদের ঠিকানা হংকংয়ে। ট্রাস্টপাইলটে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫০০-রও বেশি এক তারকা রিভিউ পাওয়া গেছে। ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, উচ্চ দামে কিনে তারা পেয়েছেন সস্তা মানের পণ্য ও অতিরিক্ত রিটার্ন ফি।
“C’est La Vie” তাদের ওয়েবসাইটে দেখিয়েছিল, মালিক ইলিনের স্বামী প্যাট্রিক মারা গেছেন এবং দোকান বন্ধের আগে ৮০% ছাড়ে পণ্য বিক্রি চলছে। কিন্তু ক্রেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তাদের কাছে এসেছে “প্লাস্টিকের আবর্জনা ও সস্তা ধাতব জিনিস”। এক ক্রেতা লিখেছেন, “এটা সম্পূর্ণ প্রতারণা, বার্মিংহামে এমন কোনো দোকানই নেই।”
বার্মিংহামের আস্টেলা জুয়েলারির মালিক সানি পাল বলেছেন, এসব ভুয়া দোকান স্থানীয় ব্যবসার সুনাম নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের মিথ্যা গল্প আসল পারিবারিক ব্যবসাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করছে।”
ভোক্তা বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, কেনার আগে কোম্পানির রিভিউ ও শর্তাবলী ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ওয়েবসাইটে দেওয়া ঠিকানা ও মালিকের ছবিগুলো আসল কিনা তা খেয়াল রাখতে হবে। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক লি সতর্ক করে বলেছেন, “এআই প্রযুক্তি এত দ্রুত উন্নত হচ্ছে যে ভবিষ্যতে হয়তো বোঝাই কঠিন হবে কোন ব্যবসার পেছনে সত্যিকারের মানুষ আছে।”














