সিজার করাতে গিয়ে কোমায়, নটিংহ্যামের মায়ের দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা

138

সাইফ হাসান: নটিংহ্যামের এক নারী অমি সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার দিন কোমায় কাটাতে হয়েছে তাঁকে। ৩৫ বছর বয়সী অমি নটিংহ্যাম সিটি হাসপাতালে ২৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখে অস্ত্রোপচারের সময় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন। এর ফলে তিনি নবজাতক ছেলে রেজিকে মাত্র ১০ মিনিট দেখার পর অচেতন হয়ে পড়েন।

অমির ঘটনা বর্তমানে এনএইচএস ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাতৃত্ব সেবার পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট নটিংহ্যাম ইউনিভার্সিটি হাসপাতালস এনএইচএস ট্রাস্ট ইতোমধ্যেই তাঁর প্রতি ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

চিকিৎসকরা স্বীকার করেছেন, অমির অবস্থার অবনতি দ্রুত চিহ্নিত করা যায়নি। যথাসময়ে পরামর্শক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ও অ্যানাস্থেটিস্ট জড়িত থাকলে রক্তক্ষরণ আগেই ধরা পড়তে পারত। শেষ পর্যন্ত জরুরি অস্ত্রোপচারে তাঁর শরীর থেকে তিন লিটারের বেশি রক্ত বের হয়।

অমি বলেন, “এটা খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। অনেক দিন আমি বসে কাঁদি, ভাবি যদি আমার কিছু হয়ে যেত, তাহলে আমার সন্তানদের দেখত কে?”

রেজিও জন্মগত নানা জটিলতায় ভুগছে—অন্ননালী সমস্যা, হাড়ের অসামঞ্জস্য, হৃদযন্ত্রে ছিদ্রসহ আরও নানা জটিলতা। চিকিৎসকদের মতে, ভবিষ্যতে তাঁর দুই পা কেটে ফেলতে হতে পারে। তবে মা অমির ভাষায়, “সে এত খুশি একটি বাচ্চা, দেখলে বিশ্বাসই হয় না এত সমস্যায় ভুগছে।”

অমির এই কাহিনি নটিংহ্যাম ট্রাস্টের প্রায় ২,৫০০ মামলার মধ্যে একটি, যেগুলো স্বাধীন পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। তদন্তের নেতৃত্বে আছেন জ্যেষ্ঠ ধাত্রী ডোনা অকেনডেন। তাঁর প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে ২০২৬ সালের জুনে।

ট্রাস্টের প্রধান নার্স ট্রেসি পিলচার বলেন, “অমি ও তাঁর পরিবারের প্রতি এই ঘটনার প্রভাব আমরা স্বীকার করছি। আগে পদক্ষেপ নিলে জটিলতা কমানো যেত, এজন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”