স্কুলে ছাত্রদের মধ্যে নারীবিদ্বেষ ও বর্ণবাদের উত্থান: শিক্ষকদের কাছে ট্রাম্প-টেটের প্রভাব!

30

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের স্কুলগুলোতে ছাত্রদের মধ্যে নারীবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী আচরণ বাড়ছে। শিক্ষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমিংয়ের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও অ্যান্ড্রু টেটের মতো ব্যক্তিদের আচরণ অনুকরণ করছে ছাত্ররা। এনএএসইউডব্লিউটি ইউনিয়নের এক জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ শিক্ষক সোশ্যাল মিডিয়াকে এই সমস্যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

জরিপে বলা হয়েছে, নারী শিক্ষকরা এই আচরণের প্রধান শিকার। একठিক্ষক বলেন, “ছাত্ররা টেট ও ট্রাম্পের প্রভাবে বর্ণবাদী, সমকামীবিদ্বেষী, ট্রান্সফোবিক ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে। তারা মনে করে এর কোনো শাস্তি নেই।” শুক্রবার ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্যাট্রিক রোচ বলেন, “তিনজনের মধ্যে দুজন শিক্ষক বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া ছাত্রদের দুর্ব্যবহার ও বুলিংয়ের অন্যতম কারণ।”

এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, “১০ বছরের ছেলেরা আমার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করে। তারা অ্যান্ড্রু টেটের গাড়ি ও নারীদের প্রতি আচরণের ভক্ত। তারা পুরুষ শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে চায়।” আরেক িক্ষক বলেন, “ছেলেরা টেটের ভিডিও দেখে নারী শিক্ষকদের দিকে ঘেউ ঘেউ করে ও দরজা আটকে দেয়।”

রোচ বলেন, মোবাইল ফোনের ব্যবহার সীমিত করা যথেষ্ট নয়। তিনি এটিকে “জাতীয় জরুরি অবস্থা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এর সমাধানে বড় পরিকল্পনা দরকার।” শিক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র বলেন, “আমরা শিক্ষকদের জন্য সম্পদ সরবরাহ করছি এবং অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছি।”

লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের শিক্ষা মুখপাত্র মুনিরা উইলসন বলেন, “বিষাক্ত অ্যালগরিদম শিশুদের ইন্টারনেটের অন্ধকার কোণে ঠেলে দিচ্ছে। এটি স্কুলেठ্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।” লিভারপুলে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শিক্ষকরা জানান, কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানের আচরণ নিয়ে আলোচনার সময় বৈরী, এমনকি সহিংস হয়ে ওঠেন।

নরউইচের প্রতিনিধি লিন্ডসে হ্যাঙ্গার বলেন, “উপস্থিতির লক্ষ্য পূরণের জন্য অনেক স্কুল দুর্ব্যবহার সহ্য করে।” তিনি সরকারের কাছে অভিভাবকদের জন্য কঠোর নীতি প্রণয়নের দাবি জানান। সম্মেলনে “নো এক্সক্লুশন” নীতির বিরোধিতা এবং শিক্ষকদের জন্য উচ্চ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব পাস হয়।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian