নিউজ ডেস্ক: কোভিডের প্রকপ যেতে না যেতেই হাজির হয়েছে নতুন উদ্বেগ। বৃটেনসহ ইউরোপে শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে রহস্যজনক এক অসুখ। এরইমধ্যে একজন এতে মারাও গেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা জানিয়েছে, বিশ্বের অন্তত ১১ দেশে ছড়িয়ে পড়া এই রোগটি হেপাটাইটিসের একটি গুরুতর ধরন। এখন পর্যন্ত ১৭০ শিশু এতে আক্রান্ত হলেও এটি আক্রান্ত হওয়ার যথাযথ কারণ চিহ্নিত করা যায়নি। আচমকা কী কারণে এতগুলি শিশুর শরীরে হেপাটাইটিস থাবা বসিয়েছে তার কারণ অনুসন্ধানে উঠে পরে লেগেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সায়েন্স অ্যালার্টের রিপোর্টে জানানো হয়, গত ৩১শে মার্চ স্কটল্যান্ডে প্রথম এই রোগ চিহ্নিত হয়। আশ্চর্যজনকভাবে আক্রান্তদের কারও শরীরেই চিরপরিচিত হেপাটাইটিস ভাইরাস এ, বি, সি, ডি কিংবা ই-এর দেখা মেলেনি। এ নিয়ে ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অব ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজের কর্মকর্তা বলছেন, এটি খুবই বিরল ঘটনা।
স্কটল্যান্ডের চিকিৎসকরা হয়ত সমগ্র বছরে চার থেকে পাঁচটি বিরল হেপাটাইটিস শনাক্ত করেন। অথচ শুধু বৃটেনেই এখন পর্যন্ত এমন ১১৪টি কেস শনাক্ত হয়েছে।
এরপরেই সবথেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে স্পেনে। দেশটিতে বিরল এই হেপাটাইটিসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৩
তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইসরাইলের ১২ শিশু এতে আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, ইতালি, নরওয়ে, ফ্রান্স, রোমানিয়া ও বেলজিয়ামেও এই রোগ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স এক মাস থেকে শুরু করে ১৬ বছর পর্যন্ত। তবে বেশিরভাগ রোগীই ১০ বছরের কম বয়স্ক। একটি বড় অংশের বয়স আবার ৫ বছরেরও কম। আক্রান্তদের প্রায় সবাইই এর আগে শারীরিকভাবে সুস্থ ছিল। তবে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক শিশুই জন্ডিস, ডাইরিয়া, বমি এবং পেটের ব্যাথায় ভুগছে। এ নিয়ে ইউরোপীয় অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য স্টাডি অব দ্যা লিভারের প্রধান মারিয়া বুটি বলেন, এই নতুন ধরন অত্যন্ত গুরুতর এবং এটিই এখন আমাদের প্রধান উদ্বেগ। অন্তত ১০ শতাংশ শিশুর অবস্থা এতটাই খারাপ যে তাদের লিভার প্রতিস্থাপন করতে হয়েছে। একই উদ্বেগ জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞ আইকাতেরিনি মুগকো। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আরও অনেক শিশু হয়ত এতে আক্রান্ত হয়েছে কিন্তু উপসর্গ প্রকাশ না পাওয়ায় এখনও তাদের শনাক্ত করা যায়নি। আমরা যেহেতু এখনও এটি আক্রান্ত হওয়ার কারণ জানি না, মানে এটি কীভাবে ছড়ায় তাও জানি না। তাই এটি থেকে রক্ষার উপায় এবং এটির চিকিৎসা দুটোই এখনও আমাদের হাতের বাইরে।
বিশ্ব জুড়ে বিশেষজ্ঞদের মনে এখন এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে, কোনও ভাবে কোভিডের সঙ্গে নতুন এই রোগের যোগসূত্র আছে কিনা। কেউ কেউ আবার এই হেপাটাইটিসকে কোভিড ভ্যাকসিনের প্রভাব কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু ইউরোপিয়ান কংগ্রেস অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজের প্রধান জানিয়েছেন, প্যারাসিটামলের ডিজিজের প্রধান জানিয়েছেন, প্যারাসিটামলের ওভার ডোজ বা প্রতিষেধক ইনজেকশনের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই। তাদের অনুমান, এই সমস্ত কারণে লিভারে কোনও প্রভাব পড়ার কথা না। আবার কোভিড ভ্যাকসিনের সঙ্গেও এর কোনও যোগ নেই কারণ অধিকাংশ শিশুই ভ্যাকসিন নেয়ার বয়সে পৌঁছায়নি।















