ওয়ানবাংলানিউজ: করোনা ভাইরাস আমাদের জীবনধারা পাল্টে দিয়েছে। আমরা সবাই এখন এক নজীরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অনেকের জন্যই এটি একটি কঠিন সময়। এমন দূ:খের দিনেও টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই আমাকে আরেকবার আশান্বিত করেছে। অতীতেও এখানে আমরা এমনটি দেখেছি। এখানে সবাই একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
অনেক কিছুর মতই কাউন্সিলের বিভিন্ন সার্ভিসে আমাদের পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য যোগ করতে হয়েছে বিশেষ সাপোর্ট। সারাদেশের মধ্যে আমাদের কাউন্সিল ট্যাক্স রিডাকশন স্কিমটি অন্যতম উদার। এখানে নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের শতভাগ কাউন্সিল ট্যাক্স দিতে হয়না। বর্তমানে এটি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠেছে। বাজেট কাটের চাপ সত্ত্বেও এটি আমাদের নিম্ন আয়ের বাসিন্দাদের জন্য একটি বিশেষ সহযোগিতা।
করোনা ভাইরাসের কারনে কারো আয় কমে গেলে তিনি এর সুবিধা নিতে পারবেন। আমরা দরিদ্র বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। গৃহহীন বাসিন্দাদের সেল্ফ কনটেইন্ড আবাসনের ব্যবস্থা করেছি। আমি আমাদের আউটরিচ টিমের সাথে গিয়ে তাদের এসংক্রান্ত কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা বারার ৯ টি বিশেষ হাব থেকে বারার বিভিন্ন স্থানে জরুরী খাবার সরবরাহ করছি নিয়মিতভাবে।
এপর্যন্ত ৫ হাজার খাবারের পার্সেল বাসিন্দাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমাদেরকে অত্যন্ত দ’্রুততার সাথে এই কাজটি করতে হয়েছে এবং এটি অনেকের জন্যই জরুরী ছিলো। আমরা খুবই সৌভাগ্যবান যে আমাদের রয়েছে অত্যন্ত কার্যকর একটি ভলান্টারী এবং কমিউনিটি সেক্টর এবং তারা এই বিপদের সময় আবার এগিয়ে এসেছেন। এদের মধ্যে যারা কাউন্সিলের ট্যানেন্টস তাদের অনেককেই ৩ মাসের রেন্ট রিলিফের সুযোগ দেয়া হয়েছে যাতে করে তারা এই কঠিন সময়কে মোকাবেলা করতে পারেন। এই সুবিধাপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মসজিদ, সোশাল ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব ইত্যাদি।
আশা করছি এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তারা তাদের বর্তমান চ্যারেটি কার্যক্রমে আরো মনোনিবেশ করবেন। তাদের জন্য কাউন্সিল ১০০ হাজার পাউন্ড বরাদ্দ করেছে। লকডাউন স্থানীয় ব্যবসা বাণিজ্যেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বারার ৩৫০০ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রেইট রিলিফ এবং গ্রান্টস হস্তান্তর করা হয়েছে।
সবকিছুর পরও বলবো সংকট উত্তরনে আমাদের প্রত্যেককে যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদেরকে বাইরে থেকে এসে সব সময় হাত ধুতে হবে।
একান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আর বাইরে গেলে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মেনে চলতে হবে। আমি জানি এই রমজানে ইফতার, মসজিদ এবং প্রিয়জনদের এড়িয়ে চলাটা কষ্টকর। তবে আমি আশাবাদি। আমরা সকলে মিলে কাজ করলে আমরা অবশ্যই একে প্রতিহত করতে পারবো।















