বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নকশার স্থপতি তারেক রহমান: কবীর আহমেদ ভূইয়া

317

কবীর আহমেদ ভূঁইয়া: বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আজ একটি প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে—কে দেশের ভবিষ্যৎ নকশা নিয়ে সুসংগঠিত চিন্তা করছে? উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া—রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনের বিষয়গুলো নিয়ে কার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা আছে? বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করা যায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র–সংস্কার, খাতভিত্তিক উন্নয়ন এবং নাগরিক জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দিক পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করে যে দীর্ঘমেয়াদি নকশা হাজির করেছে, তা বিএনপির রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মেই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে articulating হয়েছে—এবং সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান।

তার রাজনৈতিক বক্তব্য, ভার্চুয়াল বক্তৃতা ও নীতি–ঘোষণায় একটি thing বারবার স্পষ্ট হয়—তিনি কেবল ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যব্যঞ্জক বক্তব্য দিচ্ছেন না; বরং প্রশাসন, নীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার তার প্রস্তাবনার গোড়ার জায়গাটি। এই দফাগুলো আইন, রাষ্ট্রক্ষমতার কাঠামো, নাগরিক স্বাধীনতা, বিচারিক জবাবদিহি, দুর্নীতির শৃঙ্খলমুক্ত অর্থনীতি থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পর্যন্ত স্পর্শ করে। কিন্তু তারেক রহমানের কৌশল কেবল এখানেই আটকে নেই—তিনি রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে টেনে এনেছেন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতায়।

কৃষকের জন্য কৃষক কার্ড—যেখানে কৃষি–ঋণ, ফসল বীমা, সার–বীজের নিশ্চয়তা, প্রযুক্তি এবং বাজার প্রাপ্তি একটি ডিজিটাল পরিচয়ে যুক্ত হবে। গরিব ও নিম্ন আয়ের পরিবারে ফ্যামিলি কার্ড—যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা ও খাদ্য সুরক্ষা পরিকল্পনা একটি predictable entitlement-এ রূপ নেবে। স্বাস্থ্য খাতে প্রশিক্ষিত জনবল, মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা, টিকা, ওষুধ—এসব ঘোষণা অর্থনৈতিক পরিভাষার কাছে নয়, মানুষের বেঁচে থাকার সবচেয়ে মানবিক প্রয়োজনে যুক্ত। শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে তিনি পড়াশোনার mechanical routine থেকে আনন্দ–ভিত্তিক শেখা, শারীরিক ক্রীড়া, টেকনিক্যাল শিক্ষার মানোন্নয়নের কথা বলেছেন।

এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বিশেষত্ব হলো—একজন ইমাম, একজন মুয়াজ্জিনের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা পর্যন্ত তিনি পরিকল্পনার অংশ করেছেন; আবার স্কুলের বাচ্চাদের খেলাধুলা থেকেও কেউ বাদ পড়ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনার মানসিকতায় এটি policy-based micro empathy—যা উন্নত রাষ্ট্রগুলোর মানব উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে।

তারেক রহমানের বক্তব্যে গত কয়েক বছরে আমরা দেখেছি—তিনি ভাবছেন নদী, খাল, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ, আইটি কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, এবং এক নতুন কর্মবাজারের কাঠামো নিয়ে। দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার বা বিদেশি বিনিয়োগ—সবকিছুর পেছনে তিনি মানব উন্নয়ন সূচকের ভিত্তি তৈরি করতে চান।

এই কারণেই তাঁর ধারণাগুলো শত্রুপক্ষের কাছেও dismissible নয়। বিরোধীরা রাজনৈতিক সমালোচনা করলেও এই পরিকল্পনার পরিমাণ, পরিধি ও administrative detailing উপেক্ষা করতে পারে না।

আজকের বাংলাদেশ যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটে আবদ্ধ—তার প্রধান কারণ দৃষ্টিভঙ্গির সংকট। রাষ্ট্র পরিচালনা যেদিন ক্ষমতার ভাষ্য থেকে সরে এসে মানব উন্নয়ন ও টেকসই প্রশাসনের নকশায় দাঁড়ায়, সেদিনই ভবিষ্যৎ দৃশ্যমান হয়। তারেক রহমানের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে সেই ভবিষ্যৎ—যেখানে উন্নয়ন কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি family card-এর নিরাপত্তা, একটি farmer card-এর ফসল ফলানোর নিশ্চয়তা, একটি ইমামের সম্মান, একটি শিশুর খেলার মাঠ, একটি শিক্ষার্থীর ডিজিটাল শেখা, আর একজন রোগীর চিকিৎসা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় যে যুগান্তকারী বাস্তববাদ দেখিয়েছিলেন—জাতীয় পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক বিস্তার, বৈদেশিক নীতি ও বহুমাত্রিক উন্নয়ন—সেই বাস্তববাদের উত্তরাধিকার আজ যদি কেউ সুসংগঠিত নীতি ও জনমুখী পরিকল্পনায় ধারণ করছেন, তা দৃশ্যত তারেক রহমানই।

রাজনীতি ভবিষ্যৎ অনুমানের শিল্প—এবং রাষ্ট্র পরিচালনা ভবিষ্যৎ সৃষ্টি করার দায়িত্ব। সেই দুইয়ের সংযোগস্থলে যদি আল্লাহ তাঁর জন্য সেই পথ উন্মুক্ত করেন, তাহলে জিয়াউর রহমানের সোনালি প্রশাসনিক যুগের পর দেশের সবচেয়ে সফল ও পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রনায়কের সম্ভাবনা তাঁর মধ্যেই ফুটে উঠছে।

এই বিশ্বাস কেবল আবেগের নয়; প্রশাসনিক নকশা, খাতভিত্তিক পরিকল্পনা ও নাগরিক–সমতার দর্শন—এসবই আজ বিশ্লেষকদের সামনে নতুন করে প্রশ্ন রাখছে: বাংলাদেশের সামনে কি একটি নতুন রাষ্ট্র–গঠনের নকশা উপস্থিত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে—সেটির স্থপতি নিজেকে ধীরে ধীরে স্পষ্ট করে তুলছেন।

লেখক : কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। রাজনৈতিক, উন্নয়ন পরিকল্পনাবিদ, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশন।