খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন, খতিয়ে দেখছে আইন মন্ত্রণালয়

394

ঢাকা সংবাদদাতা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদনের পর এবার গতকাল সোমবার আইন মন্ত্রণালয়েও মানবিক কারণে তার মুক্তির আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ। তার উন্নততর চিকিৎসা দরকার। এজন্য তাকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হোক। যেন তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন।

গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই চিঠিটি নথিভুক্ত করেছে এবং আইনগত মতামতের জন্য চিঠিটি আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, আইন মন্ত্রণালয়ে যে চিঠিটি আছে সেটিও আইন শাখার কাছে দেয়া হয়েছে মতামতের জন্য। যদিও আইন শাখার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার দুটি আবেদনই যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেয়া হয়নি।

এদিকে আদালতের বাইরে খালেদা জিয়া দুই ভাবে মুক্তি পেতে পারেন বলে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রথমত- তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে মার্জনা চাইতে পারেন। রাষ্ট্রপতি মার্জনা করলে তিনি বের হতে পারেন। দ্বিতীয়ত- তিনি বিশেষ কারণ দেখিয়ে প্যারোলের জন্য আবেদন করতে পারেন।

তবে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আবেদন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের আবেদন এই দুটির কোনোটিতেই প্যারোল বা বিশেষ বিবেচনায় খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা বলা হয়নি।

তবে আইন মন্ত্রণালয় বলছে, চিঠিগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হচ্ছে। দুটো চিঠিরই খুব শিগগিরই একটা আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়া হবে। এই মতামতে খালেদা জিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা হতে পারে। আজকালের মধ্যেই বেগম জিয়ার পরিবারকে এই চিঠির ব্যাপারে মতামত জানানো হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিএনপি চেয়ারপারসনের দণ্ড মওকুফ এবং কারাগার থেকে মুক্তি চেয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ। আবেদনটি সরকারি ডাকযোগে পাঠান তিনি। আবেদনের অনুলিপিটি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউনুস আলী আকন্দ বলেন, ‘মানবিক কারণে জনস্বার্থে আমি এ আবেদনটি করেছি। খালেদা জিয়া একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক এবং একজন বয়স্ক মহিলা।’

প্রসঙ্গত, ইউনুস আলী আকন্দ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে লড়ছেন। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বৈধতা চ্যালেঞ্চ করে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন এই আইনজীবী।

কিন্তু রিট নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই তিনি ঢাকা-৮ (রমনা-মতিঝিল-পল্টন-শাহবাগ-শাহজাহানপুর) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন এবং পরাজিত হন।