আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে বিরোধী দল লেবার পার্টির এক আইন প্রণেতার আনা এই প্রস্তাব মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে বুধবার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হতে এখন উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস-এর অনুমোদন লাগবে। তবে ব্রেক্সিট বিলম্ব আর অনুমোদন পাবে কিনা, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সম্পতি ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা ব্রেক্সিটের দিনক্ষণ পরিবর্তনে যে সমঝোতায় উপনিত হয়েছিলেন তাতে চুক্তি পাস হলে আগামী ২২ মে আর চুক্তি পাস না হলে আগামী ১২ এপ্রিল ব্রেক্সিট কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। এরপর ১০ এপ্রিলের মধ্যে পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত ভোটের আয়োজন করতে করবিনের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা পোষণ করেন মে।
দ্বিতীয় দফায় ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে এবং বিরোধী দলীয় নেতা জেরেমি করবিনের মধ্যে বুধবার সেই আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকের পর চুক্তিহীন ব্রেক্সিট এড়াতে পার্লামেন্টে প্রস্তাব এনেছেন লেবার এমপি ইভেট কুপার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে ব্রেক্সিট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা জেরেমি করবিনের সঙ্গে বৈঠক করার পর পার্লামেন্টে এ প্রস্তাবটি তোলা হয়।
বুধবারই পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ৩১৩টি ও বিপক্ষে ৩১২টি ভোট পড়ে। বুধবার থেরেসা ও করবিনের আলোচনাকে গঠনমূলক বলে বর্ণনা করেছে দুই দলের আইন প্রণেতারাই। বৃহস্পতিবারও এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোটের রায় অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ রাত ১১টায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্যাগের কথা ছিল যুক্তরাজ্যের। ব্রেক্সিট পরবর্তীকালে ইইউয়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্কের শর্ত নির্দিষ্ট করে তৈরি হয় ব্রেক্সিট চুক্তি। কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তিন দফায় তা হাউস অব কমন্সে পাস করাতে ব্যর্থ হন। তবে তৃতীয় দফায় চুক্তিটি পার্লামেন্টে তোলার আগে ইইউ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্রেক্সিট বিলম্বিত করতে সমর্থ হন থেরেসা মে।














