যে কারণে যুক্তরাজ্যে একাকিত্ব বিষয়ক মন্ত্রণালয়

ফেসবুক যুগের ছেলেমেয়েরাই একাকিত্বে ভুগছে বেশি

1722

ডেস্ক রিপোর্ট: একটা সময় ছিল, যখন পাড়া-মহল্লার সমবয়সীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব হতো। পড়াশুনা করলে খুব বড়জোড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধু পাওয়া যেত।

কিন্তু আজকের দিনের ছেলেমেয়েদের জন্য এই বন্ধু ও বন্ধুত্বের সীমা অনেকখানি অতিক্রম করে গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুবাদে নানা বয়সের, নানা পেশার হাজারো বন্ধু আছে তাদের। তাই দিনের একটা লম্বা সময় তারা মুখ গুঁজে থাকেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

তারপরও বলা হচ্ছে ২১ শতকের ছেলেমেয়েরাই সবচাইতে একাকিত্বে ভোগে। সম্প্রতি এক গবেষণা থেকে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এই গবেষণাটি করে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘সিগনা’।

১৮ এবং তার ওপরের বয়সী প্রায় ২০ হাজার আমেরিকানের মধ্যে তারা এ গবেষণা করে। গবেষণার জন্য তারা এই মানুষগুলোকে বিভিন্ন দলে ভাগ করে। সবচাইতে কমবয়সী দলটি ছিল ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সীদের মধ্যে। এই বয়সীরা বয়স্কদের চাইতে বেশি একাকিত্বে ভোগে, এমনকি ৭২ বছরের বেশি বয়সীদের চাইতেও।

এই মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে শতকরা ৪৬ জন কখনো কখনো বা সবসময় একাকীত্ব বোধ করে। প্রতি চারজনে একজন মনে করছে, তাদের কেউ বোঝে না।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, শারীরিক বা মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকাই এই একাকিত্বের মূল কারণ। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাত্র শতকরা ১২ ভাগ মানুষ প্রতিদিন অন্যদের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। আর প্রায় অর্ধেক মানুষ রয়েছে যারা কখনোই মানুষের সরাসরি সান্নিধ্যে যায়নি।

গবেষণা ফলাফলে দেখানো হয়, এই মানুষগুলো, মানুষের সান্নিধ্যে থাকা ওই ১২ ভাগের তুলনায় অনেক বেশি একাকিত্বে ভোগে।

সিগনার প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী ডেভিড কর্দানি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই এই প্রবণতা পরিবর্তন করতে হবে। যখন শরীর ও মনকে আমরা এক হিসেবে বিবেচনা করব, তখনই একটি ভালো ফল পাওয়া যাবে। সারা বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে, তৈরি করেছে অন্য আরেক সমাজ। যেকোনো সময়ের চাইতে এরা সবচাইতে বেশি সম্পৃক্ত। কিন্তু এখন একাকিত্ব মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।’

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, দেশটির ২৪ লাখ চার হাজার মানুষ দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্বে ভুগছে। এ কারণে মানুষের ক্লান্তি সৃষ্টিকারী হরমোনসহ নানা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। যার কারণে, হৃদরোগ, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিকসহ স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে।

এই সামাজিক একাকিত্ব জড়িত এতটাই ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে ইংল্যান্ড সম্প্রতি ট্রেসি ক্রাউচকে একাকিত্ব বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও নিয়োগ দেয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, একদিনের একাকিত্ব এতটাই ভয়াবহ যা ১৫টি সিগারেটের চাইতেও ক্ষতিকর।