নিজস্ব প্রতিবেদক: পেট্রোবাংলাকে জাতীয়করণের তফসিল থেকে বাদ দিয়ে সংসদে উত্থাপিত ‘বাংলাদেশ শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বিল- ২০১৭’ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় কমিটি। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রিপোর্টটি চূড়ান্ত করা হয়।
গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দশম সংসদের ১৭তম অধিবেশনের প্রথম দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। পরে বিলটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।
১৯৭২ সালের ১৬ নম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এর সঙ্গে আরো কিছু সংশোধনী আনা হয়। এটি ছিলো ইংরেজিতে। এছাড়া এতে অনেকগুলো অধ্যাদেশ সংযোজিত ছিলো। মূল আইনে রাষ্ট্রপতির আদেশে যে তফসিল ছিলো সেখানে ২৫০ এর বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছিল। সেটিই এখন বাংলায় করা হয়েছে। এই শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পেট্রোবাংলা ছিলো অন্যতম। বর্তমানে পেট্রোবাংলা আলাদা মন্ত্রণালয়ে চলে যাওয়ায় এখান থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন কী পরিমাণ হবে তা সরকারের হাতে রাখা হয়েছে। আইনের সংজ্ঞায় নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। যেমন- তফসিলভুক্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এগুলো বাদ দেয়া এবং কোম্পানি আইন, তফসিল, বিধি, কয়েকটি শব্দ যোগ করা হয়েছে। সরকারের মালিকানাধীন বর্তমান শিল্প প্রতিষ্ঠানের নাম তফসিলে রাখা হয়েছে, যেগুলো বিক্রি হয়ে গেছে সেগুলো রাখা হয়নি।
বিলের তফসিলে বাংলাদেশ জুটমিলের আওতায় রয়েছে ৩১টি, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল করপোরেশনের ৩২টি, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতায় ১৬টি, ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের আওতায় ১৩টি এবং বিসিআইসির আওতায় ১৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এদিকে সোমবারের বৈঠকে চিনিকলগুলোকে লাভজনক করার লক্ষ্যে বছরের অধিক সময় উৎপাদনে থাকার জন্য আখচাষীদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং চিনিকলগুলোতে মাঠ থেকে আখের সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তার সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া বৈঠকে কৃষিখাতের প্রয়োজন অনুযায়ী সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কেমিকেল ইন্ডাস্টিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সার কারখানাগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, আবুল কালাম মো. আহ্সানূল হক চৌধুরী এবং ফাতেমা তুজ্জহুরা অংশ নেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বিসিক’র চেয়ারম্যান এবং বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।















