স্পোর্টস ডেস্ক: জাতীয় বক্সিংয়ের এবার সবার দৃষ্টি ছিল ইংল্যান্ড থেকে আসা আল সাফওয়ান উদ্দিনের দিকে। শারীরিক গড়নে ও কৌশলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বক্সার সেরা হয়েছেন ৬০ কেজি ওজন শ্রেণিতে।
পল্টনের মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে শনিবার জাতীয় বক্সিংয়ের শেষ দিনে বাংলাদেশ আনসারের রাকিব শেখকে হারিয়ে সেরা হন ঝালকাঠির রমজানকাঠি কারিগরী ও কৃষি কলেজের হয়ে খেলা সাফওয়ান।
সিলেটের বিয়ানিবাজার ছেড়ে ২১ বছর আগে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান সাফওয়ানের বাবা জগলুল চৌধূরী। ১৮ বছর বয়সী সাফওয়ানের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সেখানেই। এ লেভেলে পড়া এই বক্সার জানালেন, বাংলাদেশে এসে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী ছিলেন তিনি। আগামীতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য এনে দেওয়ার লক্ষ্য তার।
“সব সময় আমার জয়ের মানসিকতা ছিল এবং আমি চেয়েছি এখানকার রিংয়ে আধিপত্য করতে। আমি জানি, কিভাবে পাঞ্চ করতে হয়, কিভাবে পয়েন্ট আদায় করে নিতে হয়। আমি ইংল্যান্ডে অনেক কিছু শিখেছি। এখন যদি কিউবাতে গিয়ে সেখানকার কোচের অধীনে কাজ করতে পারি, সেখানকার বক্সারদের সঙ্গে লড়ার অভিজ্ঞতা নিতে পারি, তাহলে আমার দক্ষতা আরও বাড়বে।
“বাংলাদেশে এসে সাফল্য পেয়েছি, খুবই ভালো লাগছে এবং খুব গর্ব হচ্ছে। বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট, অলিম্পিক গেমস, সাউথ এশিয়ান গেমস এগুলো খেলতে চাই। কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে চেয়েছিলাম কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা হচ্ছে না। কিন্তু আমি বলতে চাই, সামনের দিকে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে চাই।”
ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের বক্সিংয়ের অনুশীলনের সুবিধার ব্যবধান অনেক। সেটা ভালোভাবেই জানা সাফওয়ানের। তবে বক্সিংয়ে এই সুবিধাগুলো খুব বেশি কাজে আসে না বলেই মনে করেন তিনি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তরুণ এই বক্সার জানালেন বাংলাদেশের বক্সারদের নিয়েও দারুণ আশাবাদী তিনি।
“ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশে অনুশীলনের পার্থক্যটা আমি জানি। কিন্তু আমার মনে হয় বক্সিংয়ে টেকনিকটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিউবা বা আফ্রিকার দিকে একটু তাকান, দেখবেন, সেখানকার বক্সাররা ইংল্যান্ডের মতো সুবিধা পায় না। কিন্তু তারা সাফল্য পায় কিভাবে? টেকনিকের কারণে।”
“অন্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের বক্সারদের খুব একটা পার্থক্য নেই; কেবল এখানকার বক্সাররা যদি টেকনিকটা ভালো করে, তাহলে সফল হওয়া সম্ভব। কেননা, বাংলাদেশের বক্সাররা আগ্রাসী, কিন্তু মিস করে, যেটা আমি করি না। বক্সিংয়ে সাফল্য পেতে হলে আপনাকে আগ্রাসীও হতে হবে এবং পাঞ্চ করার নিশানাটা ঠিক হতে হবে।”
এসএ গেমস, এশিয়ান গেমসের মতো এশিয়ান পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফওয়ানের হাত ধরে বাংলাদেশ পদক পেতে পারে বলে সাংবাদিকদের জানান বক্সিং কোচ মহিউদ্দিন আহমেদ।
“আমাদের বক্সারদের চেয়ে শারীরিকভাবে সে অনেক এগিয়ে। স্পিড, কৌশল বেশ ভাল। খেলা দেখে বোঝা গেছে, সে ভাল প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে। আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভাল করে। তাদের মানের বক্সার সে। এখন যে অবস্থায় আছে, তা ধরে রাখতে পারলে এসএ গেমসে খুবই ভাল করার সম্ভবনা আছে।”
সূত্র: বিডিনিউজ















