জাকির হোসেন কয়েছ : শীঘ্রই যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন কমিটির ঘোষণা আসছে। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃস্টি হয়েছে। এবারের কমিটিতে নতুন কোন চমক থাকবে কিনা এ নিয়ে দলীয় সভা সমাবেশ, ইফতার পার্টি, সেহেরী পাটি এবং প্রাইভেট পার্টিতে আলোচনা চলছে বেশ কয়েকদিন যাবত।
২০১৫ সালের ১৯ মে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি হিসেবে এম এ মালেক এবং দ্বিতীয়বারের মত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন কয়ছর এম আহমদ। ২ বছর মেয়াদী ১০১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নাম ঘোষণা করা হয় একই বছরের ১৬ জুলাই।
এর আগের কমিটি ২০১৩ সালে গঠন করা হয় শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছকে সভাপতি করে। এর ঠিক দুই বছর পর নতুন কমিটি গঠন করা হয়। একই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই যুক্তরাজ্য বিএনপি নতুন কমিটি পাবে বলে মনে করেন সাধারণ নেতাকর্মীরা। তবে ২০১৩ সালে কমিটি গঠনের পূর্বে লন্ডনের প্লামট্রি রেস্টুরেন্ট টানা ৯ ঘন্টা নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন যুক্তরাজ্যে অবস্থানকারী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছকে সভাপতি ও কয়ছর এম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় আহবায়ক কমিটি থেকে বাদ পড়া এম এ মালেককে করা হয় প্রধান উপদেষ্টা।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ব্রিকলেইনের সোনারগাঁও রেস্টুরেন্টে আবারো দিনব্যাপী যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জোনাল কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। এর কিছুদিন পর এম এ মালেককে সভাপতি ও কয়ছর এম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষনা করা হয়। তবে এই কমিটিতে একটু ভিন্নতা ছিল, এক নেতার এক পদ। ফলে কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকে নেতাকেই বিভিন্ন জোনাল কমিটির পদ ছাড়তে হয়। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশেও বিএনপি এই নতুন ধারা সংযোজন করে। বর্তমানে বাংলাদেশেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন জেলা উপজেলা কমিটি থেকে পদত্যাগ করে নতুনদের রাজনীতিতে সুযোগ করে দিয়েছেন।
যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন তারেক রহমান বগুড়া জেলায় তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ে যেভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচনের যে উদাহরন সৃষ্টি করেছিলেন সেই একই পদ্ধতিতে যুক্তরাজ্যেও যদি নেতা নির্বাচন করা হত তাহলে সমগ্র দেশে বিএনপি তা অনুসরণ করত। যেহেতু এক নেতার এক পদ বর্তমানে সমগ্র দেশে বিএনপি অনুসরন করছে, ঠিক তেমনি আবারো যুক্তরাজ্য বিএনপিকে অনুসরন করা হত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাজ্য বিএনপির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া রমজান মাসের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তিনি আসেন তাহলে এ মাসে কমিটি গঠন সম্ভব নয়। এছাড়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিগত দুই মেয়াদে যেভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন এবারো হয়ত কথা বলবেন। তারপর কমিটি আসবে। সেই হিসেবে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
অনেক নেতাকর্মী মনে করেন বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এ যে নিদের্শনা রয়েছে তাতে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই ভিশনকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি আবারো ক্ষমতায় আসবে। সেই ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বিএনপির কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। যেহেতু ২০০৮ সাল থেকে চিকিৎসার জন্য বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন যেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যক্রমকে বহি:বিশ্বের বিএনপি ও বাংলাদেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা অনুসরন করেন।
আন্তর্জাতিক লবিংয়ের জন্য ব্রিটেনই হচ্ছে উপযুক্ত জায়গা। এখান থেকে বিশ্বের যেকোন দেশের কুটনীতিকদের সাথে যোগাযোগ এবং লবিং করতে পারে এখানকার বিএনপি। যদি কমিটিতে সেই রকম যোগ্য লোককে যথাস্থানে বসানো হয়।
বিএনপি সমর্থকরা মনে করেন যুক্তরাজ্য বিএনপিতে অভিজ্ঞদের স্থান দেওয়া উচিত। কারন এখানে প্রতিনিয়ত বিদেশী মানবাধিকার সংস্থা, মিডিয়া, বিদেশী রাস্ট্র সমূহের প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক লবিং এবং আন্তর্জাতিক সভা সেমিনারে বিএনপির নেতাকর্মীদের গুম, হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলাসহ, দেশের গণতান্ত্র, মানবাধিকার লংঘনের চিত্র তুলে ধরতে হয়। তাই এখানে যোগ্যদের বিকল্পনেই।
কেউ কেউ মনে করেন আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যদি কমিটি গঠন করা তাহলে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন নেতাকর্মীদের স্থান দেয়া উচিত । আর আন্দোলন সংগ্রামের জন্য যদি কমিটি গঠন করা হয় তাহলে হয়ত কমিটি গতানুগতিকই হবে।
বিভিন্ন স্থরের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানাগেছে, তাদের ধারনা নতুন কমিটিতে তেমন কোন পরিবর্তন হবে না। তবে সাধারন সম্পাদক পরপর দুই মেয়াদে থাকায় তিনি এখন কোন অবস্থানে থাকবেন সেটিই দেখার বিষয়। অনেকটা তার পরিবর্তনের উপরই নতুন সংযোজন বা বিয়োজন হবে।
অনেকের মতে বর্তমান কমিটির সফলতা বা ব্যর্থতাকে চিহিৃত করে যদি কমিটি গঠন হয় তাহলে ভবিষ্যত বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ভূল থেকে বিরত থাকবেন।
এদিকে সভাপতি হিসেবে বর্তমান সভাপতি এম এ মালেক এর সাথে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হচ্ছেন, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুছ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, বর্তমান সহ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আক্তার হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক তপন চৌধুরী, সহ সভাপতি এম লুতফুর রহমান। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সভাপতি নাসিম আহমদ চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম সম্পাদ এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক আহবায়ক দেওয়ান মোকাদ্দেম চৌধুরী নিয়াজ, বর্তমান যুগ্ম সম্পাদক কামাল উদ্দিন, ড. মুজিবুর রহমান এর নাম।















