যুক্তিতর্ক শেষ হবে কাল, খালেদা জিয়ার খালাস দাবি

490

ঢাকা সংবাদদাতা: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার দুপুরে রাজধানীর বকশীবাজারে পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের আদালত এ আদেশ দেন।

এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রেজ্জাক খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার যুক্তি-তর্ক শেষ বলে আদালতকে জানিয়ে মামলা থেকে বিএনপি নেত্রীকে খালাস দেওয়ার দাবি জানান রেজাক খান। চারদিন নিজের যুক্তি তুলে ধরে শেষে এসে তিনি আদালতকে বলেন, ‘এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাকে খালাস দেয়ার দাবি জানাই।’

এদিকে বিএনপি নেত্রীর পক্ষে তার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রথম বারের মতো যুক্তি-তর্ক শুরু করলেও দিনের শুনানি শেষ হওয়ার আগে মাত্র ১৫ মিনিট সময় পান তিনি। বিচারক বৃহস্পতিবারও তার যুক্তি উপস্থাপনের সময় রেখেছেন।

১৫ মিনিটের বক্তব্যে খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘আমরা যাই বলি না কেন, এই মামলার স্বাক্ষী প্রমাণে যাই থাকুক না কেন, বলতে হবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা; এবং এই মামলার উদ্দেশ্য হল যে কোনোভাবেই বলতে হবে- এটাই চোর, আমাদেরকে চোর বলতে হবে।’

আদালতের দিনের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, কোনো বিষয়েই খালেদা জিয়ার বিপক্ষে বলা হয়নি। তিনি যে জড়িত ছিলেন না, সেটাই বরং প্রমাণিত হয়। “সংবিধান অনুযায়ী ওই লেনদেনের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা প্রাইভৈট ট্রাস্ট। রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য, বেগম জিয়ার চরিত্র হননের জন্য, তাকে জনগণের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য দূরভিসন্ধিমূলকভাবে এই মামলা দায়ের করা হয়।’

এরপর আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তার অসমাপ্ত বক্তব্য বৃহস্পতিবার উপস্থাপন করবেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার কিছু আগে খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আদালতে যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

আব্দুর রেজ্জাক ও খন্দকার মাহবুব হোসেন ছাড়াও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সানাউল্লাহ মিয়াসহ খালেদা জিয়ার অর্ধশতাধিক আইনজীবী এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে দুর্নীতির এ মামলায় যুক্তিতর্কে অংশ নিতে আদালতে হাজির হন বিএনপি চেয়ারপারসন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশিদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী (পলাতক), হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন—মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।