সাইফ হাসান: ব্রেক্সিট গণভোটের প্রায় এক দশক পর ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের মান সামগ্রিকভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুদের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাসের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরো ও মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ ১৮টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে পাউন্ডের মান বেড়ে এখন ৮৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে ঠেকেছে। ২০১৬ সালের জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার ভোটের পর এই প্রথম ব্রিটিশ মুদ্রাটি এমন শক্তিশালী অবস্থানে ফিরল। অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১৮টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে পাউন্ডের মান নির্ধারণকারী সূচকে এটি ৮৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যেখানে ২০০৫ সালের মানকে ১০০ হিসেবে ধরা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে এই হিসাব নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের জুনে ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকেই ব্রিটিশ মুদ্রা দরপতনের মুখে পড়েছিল, যা করোনা মহামারি এবং ২০২২ সালের বহুল আলোচিত মিনি-বাজেটের সময়ে আরও চরম রূপ নেয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রত্যাশার চেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা ব্রিটেনকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছেন। এর ফলেই মুদ্রা বাজারে স্টার্লিংয়ের এই চমৎকার পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জিম ও’নিল এই উত্থানকে অত্যন্ত স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, ব্রিটেনের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে যারা এতদিন খাটো করে দেখেছিলেন, তাদের ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। একই সঙ্গে পাউন্ড শক্তিশালী হওয়ায় আমদানি পণ্যের খরচ কমবে, যা সাধারণ মানুষের কেনাকাটা ও ছুটির দিনে বিদেশ ভ্রমণের ব্যয় সহজ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
অবশ্য সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বাড়তি দাম সাধারণ ভোক্তাদের আস্থায় কিছুটা চাপ তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নয় সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটি বৈঠকে বসছে, যেখানে দীর্ঘ তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের মান শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে এক দশমিক ৩৪৯৫ ডলারে ঠেকলেও ইউরোর বিপরীতে তা সামান্য কমে এক দশমিক ১৯৭৯ ইউরোতে লেনদেন হয়।
#যুক্তরাজ্য #ব্রিটিশপাউন্ড #অর্থনীতি #aknews #onebanglanews














