সাইফ হাসান: ব্রিটিশ কৌতুকাভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে আরও দুটি ধ*র্ষণের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভক্তকে ধ*র্ষণ এবং আরও তিন নারীকে যৌ*ন নি*র্যাতনের অভিযোগে সম্প্রতি আদালতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নতুন অভিযোগগুলোর তদন্তের ফাইল ইতোমধ্যে সরকারি কৌঁসুলিদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী প্রধান গোয়েন্দা রাসেল ব্র্যান্ডকে একজন ভয়ংকর শিকারি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া অন্য কোনো নারী যদি তার অপ*রাধের শিকার হয়ে থাকেন, তবে তাদের নির্ভয়ে পুলিশের কাছে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে চার সপ্তাহের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডকে একজন ভক্তকে ধর্ষণ এবং পাঁচ বছরের ব্যবধানে আরও তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে দুটি ধর্ষণের অভিযোগ ও একটি যৌন নিপীড়নের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার বিরুদ্ধে নতুন আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছে এবং এ সংক্রান্ত ফাইল ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসে পাঠানো হয়েছে।
মেট পুলিশের অপারেশন অ্যাক্টিনোলাইট তদন্ত দলের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তা অ্যান্ডি ফারফি জানান, ব্র্যান্ডের খ্যাতি বৃদ্ধির সাথে সাথে তার অপরাধমূলক আচরণও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, প্রভাব ও অর্থের অপব্যবহার করে এই তারকা নারীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছেন এবং তাদের মুখ বন্ধ রাখার পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। ফারফি উল্লেখ করেন যে এখনও তাদের কাজ শেষ হয়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত অন্য নারীদেরও কোনো ভয় না পেয়ে এগিয়ে এসে পুলিশের সাথে কথা বলার আহ্বান জানান।
এই তদন্তে পুলিশ একশরও বেশি সাক্ষীর সঙ্গে কথা বলেছে এবং প্রায় সাড়ে তিনশ জবানবন্দি নথিভুক্ত করেছে। ২০০৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজের প্রাসাদে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে লন্ডনের হাইকোর্টে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি পৃথক দেওয়ানি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ২০১০ সালের একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করা হয়।
বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী নারীদের আদালতে জবানবন্দি দিতে গিয়ে চরম মানসিক অস্বস্তি ও কঠিন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। গোয়েন্দারা জানান, বিচার চলাকালে ব্র্যান্ডের বিভিন্ন পডকাস্ট ও সাক্ষাৎকারে দেওয়া মন্তব্য ভুক্তভোগীদের ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। পুলিশ আশা করছে, এই রায়ের পর আরও অনেক নিপীড়িত নারী সাহস সঞ্চয় করে নিজেদের গল্প বলতে প্রকাশ্যে এগিয়ে আসবেন।
#যুক্তরাজ্য #রাসেলব্র্যান্ড #মেটপুলিশ #aknews #onebanglanews















