যুক্তরাজ্যে লাইভ ফেসিয়াল রিকগনিশন ব্যবহারে নতুন আইন, নজরদারিতে আসছে কঠোর বিধিনিষেধ

22

সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পুলিশের লাইভ ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির পলিসিং মন্ত্রী সারা জোন্স। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে প্রযুক্তিটির কার্যকর ব্যবহারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যক্তি সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মূলত দাগি অপ*রাধী শনাক্ত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে পেতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রাস্তায় সাধারণ মানুষকে এভাবে বায়োমেট্রিক স্ক্যানিংয়ের মুখে ফেলা ব্যক্তি স্বাধীনতার সরাসরি লঙ্ঘন। এদিকে ব্রিটিশ পুলিশ দাবি করেছে, গত দুই বছরে তিন হাজারের বেশি অপ*রাধীকে গ্রে*প্তার করে লন্ডনকে অনেক বেশি নিরাপদ করা সম্ভব হয়েছে।

বিবিসি লন্ডনের সঙ্গে আলাপকালে পলিসিং মন্ত্রী সারা জোন্স জানান, ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির পরিধি কতদূর যাওয়া উচিত তা নিয়ে জনমনে যৌক্তিক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, সাধারণ কোনো ট্রাফিক বা পার্কিং জরিমানার মতো ছোটখাটো বিষয়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে না, বরং এটি নির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক ও আনুপাতিক হারে প্রয়োগ করতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুলিশের কার্যক্রম তদারকি করতে একটি স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা গঠন করা হবে, যারা কোনো ব্যত্যয় দেখলে প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও দিতে পারবে।

তবে বিগ ব্রাদার ওয়াচের মতো নাগরিক অধিকার সংস্থাগুলো এই ব্যবস্থার তীব্র বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জাসলিন চাগ্গার বলেন, রাস্তায় সাধারণ পথচারীদের মুখ স্ক্যান করে সবাইকে শুরুতেই অপরাধী ভাবা ব্রিটিশ সংস্কৃতির পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করেছেন, ট্রেন ও টিউব স্টেশন থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট পর্যন্ত এই নজরদারি ছড়িয়ে দিয়ে নির্দোষ নাগরিকদের ওপর নজরদারির বাড়তি চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ একে নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য বড় সাফল্য বলে বিবেচনা করছে। ডেপুটি কমিশনার ম্যাট জুকস জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত বিপজ্জনক অপরাধী ও যৌন অপরাধীদের শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়েছে। সম্প্রতি নটিং হিল কার্নিভালেও এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করে ১২০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যেখানে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার মানুষের চেহারা স্ক্যান করা হয়।

আসন্ন ডিসেম্বর মাস থেকে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড ও সোহো এলাকায় ল্যাম্পপোস্টে স্থায়ী ফেস রিকগনিশন ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা করছে পুলিশ, যার মধ্যে বিখ্যাত অক্সফোর্ড স্ট্রিটও রয়েছে। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে বহনযোগ্য নতুন ডিভাইসের পরীক্ষামূলক ব্যবহারও শুরু হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন আশা করছে, নতুন আইন এলে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ দমনে তাদের প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ক্ষমতার ওপর অযৌক্তিক কোনো বাধা আসবে না।

#যুক্তরাজ্য #লন্ডনপুলিশ #ফেসরিকগনিশন #aknews #onebanglanews