সাইফ হাসান: বিখ্যাত জলবায়ু গবেষক ও লেখক আন্দ্রেয়াস মালমকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের চৌদ্দ শতাধিক শিক্ষাবিদ। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তকে মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার ওপর গুরুতর আঘাত বলে অভিহিত করেছেন তারা। নির্ধারিত একটি সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার কথা থাকলেও জনস্বার্থের কারণ দেখিয়ে তার এন্ট্রি পাস বা ইটিএ বাতিল করা হয়েছে। এই অনৈতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শিক্ষাবিদরা অবিলম্বে সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক এবং ‘হাউ টু ব্লু আপ এ পাইপলাইন’ বইয়ের লেখক আন্দ্রেয়াস মালম গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। তাকে জানানো হয় যে তার উপস্থিতি জনস্বার্থের জন্য অনুকূল নাও হতে পারে। ফলে তিনি নির্ধারিত একটি একাডেমিক কনফারেন্সে অংশগ্রহণ এবং বিবিসিতে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের সহকারী অধ্যাপক ফাবিয়ান ডাবলান্দারের উদ্যোগে একটি খোলা চিঠি প্রকাশিত হয়। বিশ্বের দুইশ পঞ্চাশটির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চৌদ্দ শতাধিক ব্যক্তি এই চিঠিতে স্বাক্ষর করে এই পদক্ষেপকে একাডেমিক স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর বড় আঘাত বলে অভিহিত করেছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে গবেষকদের চলাচলে বাধা দেওয়া একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে।
আন্দ্রেয়াস মালম এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে ফিলিস্তিন অ্যাকশন সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আমৌরির সঙ্গে একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকায় তাকে সন্ত্রাসী বা এর সঙ্গে জড়িত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন যে জননিরাপত্তা বা উগ্রবাদ ছড়ানোর শঙ্কা থাকলেই ইটিএ বাতিল করা হতে পারে এবং এটি যুক্তরাজ্যে আসার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন যে এই ধরনের পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে মুক্তবুদ্ধি ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের কেন্দ্র হিসেবে যুক্তরাজ্যের সুনামের জন্য হুমকিস্বরূপ।
#যুক্তরাজ্য #গবেষক #সংবাদ #aknews #onebanglanews















