টাওয়ার হ্যামলেটসের তরুণরা এখন ২০২৭/২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য কাউন্সিলের এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স (ইএমএ) এবং ইউনিভার্সিটি বার্সারি কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন, যা তাদের শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার খরচ মেটাতে সহায়তা করবে।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলই দেশের একমাত্র স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা ইএমএ পুনরায় চালু করেছে এবং অল্প কয়েকটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি যারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্যও আর্থিক অনুদান প্রদান করে।
ইএমএ-এর আওতায় যোগ্য সিক্সথ ফর্ম ও কলেজ শিক্ষার্থীরা ৬০০ পাউন্ড এককালীন অনুদান পাবেন, যা যাতায়াত, বই, শিক্ষা উপকরণ ও অন্যান্য পড়াশোনার খরচ মেটাতে সহায়তা করবে।
ইউনিভার্সিটি বার্সারির আওতায় যোগ্য স্নাতক (আন্ডারগ্র্যাজুয়েট) শিক্ষার্থীরা ১,৫০০ পাউন্ড অনুদান পাবেন, যা আবাসন, কোর্সের উপকরণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে।
২০২২ সালে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল এই কর্মসূচিগুলো পুনরায় চালু করার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি অর্থ বরার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৬,৫০০ জন তরুণ উচ্চ ও পরবর্তী শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও সফল হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
সর্বশেষ অর্থায়ন পর্বে প্রায় ২,০০০ জন তরুণকে ২ মিলিয়ন পাউন্ড প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ১,২৫০টি ইএমএ এবং ৮০০টি ইউনিভার্সিটি বার্সারি অন্তর্ভুক্ত।
আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে এবং চলবে ১ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “আমরা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে আর্থিক কষ্টের কারণে কোনো তরুণ-তরুণী যেন তাদের সম্ভাবনা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়।”
তিনি বলেন, “এই কর্মসূচিগুলো পুনরায় চালু হওয়ার পর থেকে আমরা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ৫.৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করেছি, যা প্রায় ৬,৫০০ জন তরুণকে তাদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে। এই অনুদানগুলো আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং পুরো বরোর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য একটি বাস্তব বিনিয়োগ। তাই যারা যোগ্য, তাদের সবাইকে আবেদন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
শিশু, তরুণ ও জীবন-সুযোগ বিষয়ক ক্যাবিনেট সদস্য কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমরা জানি, অনেক শিক্ষার্থী ও পরিবার এখনও আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই এই সহায়তা আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যাতায়াত খরচ, শিক্ষা উপকরণ বা আবাসন ব্যয় যাই হোক না কেন, এই অনুদান শিক্ষার্থীদের জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সহায়তা করে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই সকল যোগ্য তরুণ এই সহায়তার সুযোগ গ্রহণ করুক এবং এর মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করুক।”
ইউনিভার্সিটি বার্সারির সুবিধাভোগী মিলানা সেরনিসেভা বলেন, “এই বার্সারি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটি দৈনন্দিন খরচের আর্থিক চাপ কমিয়েছে এবং আমাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সাহায্য করেছে। এই অর্থ দিয়ে আমি খাবার, যাতায়াত, কোর্স উপকরণ, সফটওয়্যার, কম্পিউটার, বই, পোশাক এবং আমার গেমস আর্ট ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জামের খরচ বহন করতে পেরেছি ।”
তিনি আরও বলেন, “এই সহায়তার ফলে মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর চিন্তার বদলে আমি আমার সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে আরও বেশি সময় দিতে পেরেছি। আমি এ সহায়তার জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। এটি আমাকে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে এবং গেমস ইন্ডাস্ট্রিতে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করেছে।”
শিশু ও তরুণদের জন্য অব্যাহত বিনিয়োগ
ইএমএ এবং ইউনিভার্সিটি বার্সারি কর্মসূচি টাওয়ার হ্যামলেটসে শিশু ও তরুণদের জন্য কাউন্সিলের বৃহত্তর বিনিয়োগ উদ্যোগের অংশ।
কাউন্সিল ১৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটস নামের ইয়ুথ সার্ভিস, যার মাধ্যমে বরাজুড়ে ইয়ুথ সেন্টার বা যুবকেন্দ্র ও কমিউনিটি ভেন্যুগুলোতে ১০০টিরও বেশি ফ্রি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
টাওয়ার হ্যামলেটস দেশের প্রথম স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, যারা সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল মিল চালু করেছে, যা পরিবারগুলোর প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে ৫৫০ পাউন্ড সাশ্রয় করে।
গত বছর কাউন্সিল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম অনুদান চালু করে। এ বছর কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করে তৃতীয় (ইয়ার থ্রি) এবং দশম (ইয়ার টেন) শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৬০ হাজার পাউন্ড বা তার কম, তারা এই সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সমাপ্ত















