নিজ সন্তানকে জানালা দিয়ে কেন ফেলে দিলেন ব্রিটিশ বাবা ?

85

সাইফ হাসান: সাইপ্রাসের একটি হোটেলের জানালা দিয়ে নিচে পড়ে দুই বছর বয়সী সন্তানের মৃ*ত্যুর ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন এক ব্রিটিশ বাবা। যুক্তরাজ্যের এসেক্সের বাসিন্দা জোশুয়া ফস্টার মঙ্গলবার দেশটির একটি আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের অসাবধানতা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কথা স্বীকার করেন। অবকাশযাপনের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর সন্তানকে শেষবিদায় জানাতে তিনি শর্তসাপেক্ষে দেশে ফিরেছিলেন। পরবর্তীতে শুনানিতে অংশ নিতে তিনি আবারও সাইপ্রাসের আদালতে হাজির হন। আদালত আগামী ৫ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

গত ১২ জুলাই সাইপ্রাসের ক্লোরাকাস এলাকার কিং এভেলথন বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সেদিন হোটেলের চার তলার একটি খোলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের দুই বছর বয়সী ছেলেকে কোমর ধরে দুলাচ্ছিলেন জোশুয়া ফস্টার। একপর্যায়ে হাত ফসকে শিশুটি নিচে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়।

পাফোস জেলা আদালতে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে ফস্টার বেপরোয়া ও বিপজ্জনক আচরণের মাধ্যমে সন্তানের প্রাণহানি ঘটানোর অভিযোগটি মেনে নেন। সন্তানের শেষকৃত্যে যোগ দিতে আদালত তাকে সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। তবে আদালতের নির্দেশহোটেলের জানালা থেকে পড়ে সন্তানের মৃত্যু: দায় স্বীকার বাবার

সাইপ্রাসে একটি হোটেলের চারতলার জানালা দিয়ে নিচে পড়ে দুই বছর বয়সী ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় নিজের দায় স্বীকার করেছেন এক ব্রিটিশ নাগরিক। মঙ্গলবার সাইপ্রাসের পাফোস শহরের একটি আদালতে হাজির হয়ে জশুয়া ফস্টার নামের ওই ব্যক্তি অসাবধানতা ও দায়িত্বহীন আচরণের মাধ্যমে মৃত্যুর অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেন।

যুক্তরাজ্যের এসেক্সের বাসিন্দা জশুয়া ফস্টারের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সন্তানকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই সাইপ্রাসের ক্লোরাকাস এলাকার ‘কিং এভেলথন বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ অবস্থানকালে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য সূত্রে জুলাই মাসে আদালতকে জানানো হয়েছিল, বাবা জশুয়া ফস্টার তার দুই বছরের শিশুসন্তানকে কোমরে ধরে দোলানোর সময় অসাবধানতাবশত খোলা জানালা দিয়ে শিশুটি নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়।

সন্তানের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ শর্তে জশুয়া ফস্টারকে সাময়িকভাবে যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল আদালত। শুনানি শুরুর আগে তিনি পুনরায় সাইপ্রাসে ফিরে এসে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

আদালতে দায় স্বীকারের বিষয়ে ফস্টারের আইনজীবী আলেকজান্দ্রোস আলেকজান্দ্রৌ বার্তা সংস্থা এপি-কে জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার ভোগান্তি এড়াতে এবং পরিবারকে আদালতের কাঠগড়ায় বারবার সেই হৃদয়বিদারক স্মৃতির মুখোমুখি না করতেই তার মক্কেল অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। আইনজীবী বলেন, “দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া চলা মানে এই ট্র্যাজেডির শিকার হওয়া মানুষটিকে পুনরায় নতুন করে মানসিক যন্ত্রণার মুখে ঠেলে দেওয়া। এই মুহূর্তে তার পরিবারের পাশে থাকাটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সাইপ্রাসের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই ধরনের অভিযোগে সর্বোচ্চ চার বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আইনজীবীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এটি কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপরাধ ছিল না, বরং কেবল মুহূর্তের অসাবধানতা ছিল। অতীতের অনুরূপ বেশ কিছু মামলার নজির তুলে ধরে তিনি জানান, এ ধরনের ক্ষেত্রে জরিমানা কিংবা স্থগিত কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়ার পূর্ব দৃষ্টান্ত রয়েছে। আগামী শুনানিতে আদালতের কাছে এসব বিষয় প্রশমনমূলক যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

আগামী ৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। সেদিন প্রসিকিউশন পক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরবে এবং বিবাদী পক্ষ তাদের সাজা কমানোর পক্ষে আনুষ্ঠানিক যুক্তি উপস্থাপন করবে। একই সঙ্গে শুনানির দিন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত স্ত্রী ও মেয়ের কাছে ফেরার অনুমতি চেয়ে আদালতের কাছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছে অভিযুক্তের আইনজীবী।