ঢাকা সংবাদদাতা: মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য বিজয় র্যালি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরের আগেই উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। র্যালির আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাত্তরের মতো মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিকাল ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিজয় র্যালীর কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষ করে বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে শুরু হয় র্যালি। র্যালিটি কাকরাইল, শান্তিনগর হয়ে মৌচাক মোড় হয়ে মালিবাগ গিয়ে আবারো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। বিএনপির বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড ইউনিট, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষকদল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতী দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী র্যালিতে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটির অগ্রভাগ যখন মালিবাগের মোড়ে তখনও শেষ ভাগ নয়া পল্টনের মোড় অতিক্রম করতে পারেনি। শোভাযাত্রাটি মোড় ঘুরে আবার পল্টনে দিকে চলে যায়।
র্যালি-পূর্ব বক্তব্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার গণতন্ত্র ও বাক-স্বাধীনতাকে হত্যা করে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা করে জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। এদের অবস্থা থেকে গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে এই সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া বিকল্প নেই। আজকে বিজয় দিবসে সেই শপথ নিতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্যের শুরুতে একাত্তরের শহীদদের প্রতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, জনগণের ভোটের রায়ের ভিত্তিতে সরকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ নির্বাচনের দাবিতে জনগণের মধ্যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টিরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একাত্তরে যে চেতনাকে অন্তরে ধারন করে, যে স্বপ্নœ দেখে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম, সেই স্বপ্ন আজো বাস্তবায়িত হয়নি। আজকে ৪৭ বছর পরও আমাদের দুর্ভাগ্যের সঙ্গে বলতে হয়, এদেশের মানুষ এখনো গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছে। এখনো দেশের মুক্তিকামী মানুষ খুন হয়ে যায়, গুম হয়ে যায়। আজকে হাজার হাজার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের যোদ্ধাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়ারিন করা হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অন্তরীন ছিলেন, যিনি ৯ বছর গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তার বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাসিত করা হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী কারা অন্তরীন।
এই কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে। কারাগার ভাঙতে হবে। আমরা সমৃদ্ধ স্বপ্নের বাংলাদেশ চাই, যেখানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকবে, মানুষ তার মতপ্রকাশ করতে পারবে, সাংবাদিকরা মুক্তভাবে লিখতে পারবে; এই ধরনের মুক্ত বাংলাদেশ চাই, বলেন বিএনপি মহাসচিব। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘একদলীয় শাসন পাকাপোক্ত করতে’ সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো কেড়ে নিয়ে জনগণকে পদদলিত করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে কখনই পদদলিত করে রাখা যায় নি, তাদের কখনো দাবিয়ে রাখা যাবে না। এদেশের মানুষ অতীতে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, এবারও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। শান্তিপূর্নভাবে বিজয় র্যালীর মাধ্যমে গণতন্ত্রের জন্য সোচ্চার হতে নেতাকর্মীসহ দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
এ সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি নেতা নাজিমউদ্দিন আলম, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, উত্তেরের সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ আহসান, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির শোভাযাত্রা উপলক্ষে নয়াপল্টন, কাকরাইল মোড়, কর্ণফুলী মার্কেট, শান্তিনগর মোড়, মালিবাগ মোড় থেকে মৌচাক পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকে বিপুল সদস্য মোতায়েন করা ছিলো। বিএনপির বিজয় র্যালীকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই নয়াপল্টন এলাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।















