গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী পাল্টে যাচ্ছে সংবিধান ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা

45

সাইফ হাসান: বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। এর ফলে সংবিধান সংশোধন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত পথ খুলে গেল। প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে এখন থেকে ক্ষমতার ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এই রায়ের মাধ্যমে আগামী সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হবে এবং প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে। অর্ধেকেরও বেশি ভোটার এই পরিবর্তনের পক্ষে নিজেদের সুস্পষ্ট মত দিয়েছেন।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, সংস্কারের পক্ষে বিপুল জনমত প্রতিফলিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার বিকেলে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যেখানে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখের কিছু বেশি।

এই গণভোটের ফলাফলে এখন থেকে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমে গিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি জীবনে সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ওই ব্যক্তি নিজের রাজনৈতিক দলের প্রধান পদে থাকতে পারবেন না।

আগামী সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট এবং উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করা হবে। এখন থেকে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির একক এখতিয়ার থাকবে। সংবিধান সংশোধন করতে হলে নিম্নকক্ষের দুই-তৃতীয়াংশ এবং উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে শীঘ্রই একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। এই পরিষদ প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সূচিত হওয়া রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।

#গণভোট #সংবিধান #সংস্কার #aknews #onebanglanews