সাইফ হাসান: লন্ডনে পুলিশের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে হাই কোর্টে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন এই প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারে সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা নষ্ট হচ্ছে এবং চলাফেরা কঠিন হয়ে পড়ছে। পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে যে অপরাধী ধরতে এই প্রযুক্তি খুব কার্যকর এবং হাজার হাজার সন্দেহভাজনকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে এই নজরদারি ভ্যান বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন যা নিয়ে বিতর্ক আরও তুঙ্গে উঠেছে।
শন থম্পসন এবং সিল্কি কার্লো নামের দুজন আন্দোলনকারী পুলিশের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছেন। তাদের আইনজীবী ড্যান স্কয়ারস আদালতে বলেন, পুলিশ জ্যামিতিক হারে এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালেই পুলিশ ২৩১ বার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের মুখমণ্ডল স্ক্যান করেছে।
আইনজীবী জানান, গত ১৭ ডিসেম্বর অক্সফোর্ড সার্কাসে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় ৫০ হাজার মানুষকে স্ক্যান করা হয়েছে। এছাড়া ক্রয়ডনের মতো এলাকায় এখন স্থায়ী ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা চলছে। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, কোনো কড়াকড়ি নিয়ম না থাকলে লন্ডনের রাস্তায় সাধারণ মানুষের পক্ষে নিজের পরিচয় গোপন রেখে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
পুলিশের পক্ষে আইনজীবী অ্যানিয়া প্রুপস যুক্তি দেন যে বিশাল জনসংখ্যার ভিড়ে অপরাধী খোঁজা আর খড়ের গাদায় সুই খোঁজা একই কথা। তিনি জানান, ২০২৫ সালে এই প্রযুক্তির সাহায্যে ৮০১ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ আরও দাবি করেছে যে যাদের নামে কোনো অভিযোগ নেই, তাদের তথ্য মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ অবশ্য এই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে। তিনি সারা দেশে ফেসিয়াল রিকগনিশন ভ্যানের সংখ্যা ১০টি থেকে বাড়িয়ে ৫০টি করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আদালত এই বিষয়ে উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে শীঘ্রই তাদের রায় ঘোষণা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
#লন্ডন #পুলিশ #প্রযুক্তি #aknews #onebanglanews















