সাইফ হাসান: মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য নাম কাঁকন বিবি যিনি সাহসিকতার জন্য বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছিলেন। একমাত্র আদিবাসী নারী হিসেবে তিনি পাকিস্তানি ক্যাম্পে গুপ্তচরবৃত্তি করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে নানা বঞ্চনার শিকার হয়েও দেশের জন্য তিনি নিজের জীবন বাজি রেখেছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই অনেকগুলো সফল অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছিল।
কাঁকন হেনিনচিতা ছিলেন এক খাসিয়া নারী যিনি ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন। একাত্তরে স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে খুঁজতে গিয়ে তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। সেখানে তাকে নির্মম নির্যাতন করা হয় এবং পরে তারা তাকে নিজেদের গুপ্তচর বানানোর প্রস্তাব দেয়।
প্রতিশোধের নেশায় কাঁকন বিবি কৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ শুরু করেন। ভিক্ষুক সেজে তিনি পাকিস্তানি ক্যাম্প থেকে তথ্য সংগ্রহ করতেন এবং গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। এমনকি সুযোগ বুঝে ক্যাম্প থেকে অ*স্ত্র ও গোলাবারুদ চুরি করে তিনি মুক্তিবাহিনীর হাতে তুলে দিতেন।
সুনামগঞ্জের জর্দিয়া ব্রিজ ধ্বংস করার ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে তিনি কলাগাছের ভেলায় করে বিস্ফোরক ও মাইন পরিবহন করেছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ২০টি সফল যু*দ্ধ পরিচালনা করেন যার মধ্যে টেংরাটিলা ও বাংসাবাজারের লড়াই অন্যতম।
টেংরাটিলার সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলি*বিদ্ধ হয়ে আহত হন। অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত করে। ২০১৮ সালের ২১ মার্চ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
#মুক্তিযুদ্ধ #কাঁকনবিবি #বীরপ্রতীক #বাংলাদেশ #বাংলাসংবাদ















