২০৩৫ সালের মধ্যে ৩ মিলিয়ন কাজ কেড়ে নিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

145

সাইফ হাসান: আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ কম দক্ষ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এর মূল কারণ হলো অটোমেশন এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর ব্যবহার। ট্রেড, মেশিন অপারেশন এবং প্রশাসনিক কাজগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। যদিও উচ্চ দক্ষ পেশাদারদের চাহিদা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে চাকরি হারানো কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বাজারে ফেরা কঠিন হবে।

ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর এডুকেশনাল রিসার্চ বা এনএফইআর-এর এক নতুন প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এনএফইআর বলেছে, এই বিলুপ্তি মূলত কম দক্ষতার পেশাগুলিতে দেখা যাবে। অন্যদিকে, এআই এবং প্রযুক্তির উন্নতির কারণে উচ্চ দক্ষ পেশাদারদের কাজের চাপ বাড়ায় তাদের চাহিদা আরও বাড়বে।

যদিও সব গবেষণার ফল এক নয়। সম্প্রতি কিংস কলেজ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষের দিকে চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর উচ্চ বেতনের ফার্মগুলিতে ৯.৪ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারও ব্যবস্থাপনা পরামর্শদাতা, মনোবিজ্ঞানী ও আইনি পেশাজীবীদের “এআই-এর কাছে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত” বলে তালিকাভুক্ত করেছে, যেখানে ছাদমিস্ত্রি বা স্পোর্টস প্লেয়ারদের ঝুঁকি কম বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক জুড হিলারি মনে করেন, এআই-এর কারণে চাকরি হারানোর পূর্বাভাস এখনই দেওয়া হয়তো কিছুটা তাড়াতাড়ি। তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে এআইকে দায়ী করা হলেও, এর পেছনে যুক্তরাজ্যের দুর্বল অর্থনীতি এবং নিয়োগকর্তাদের ঝুঁকি এড়ানোর মানসিকতা থাকতে পারে। তার মতে, নিয়োগকর্তারা কেবল পরিস্থিতি ‘অপেক্ষা করছেন এবং দেখছেন’।

হিলারি আরও জানান, এআই-এর সামগ্রিক প্রভাব হবে জটিল, যা কিছু পেশাদার কাজের চাহিদা বাড়াবে এবং অনেক নিম্ন-দক্ষতার কাজকে বিলুপ্ত করবে। তিনি বলেন, শ্রমবাজারে যে অতিরিক্ত ২.৩ মিলিয়ন চাকরি সৃষ্টি হবে, তা বেশিরভাগই পেশাদার এবং সহযোগী পেশাদারদের জন্য। এই পরিস্থিতিতে, চাকরি হারানো কম-দক্ষ কর্মীদের নতুন করে প্রশিক্ষণ নিয়ে শ্রমবাজারে ফেরাটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হবে।

#কৃত্রিম_বুদ্ধিমত্তা #চাকরির_বাজার #এনএফইআর #টেকনোলজি #যুক্তরাজ্য