সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো চালু হওয়া বার্নস বাস ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে এর কার্যকারিতা। গত ছয় মাসে বাসটি পূর্ব ইংল্যান্ডের সাতশোর বেশি রোগীর কাছে পৌঁছেছে। এতে রোগীদের ভ্রমণ কমেছে প্রায় ২৯ হাজার মাইল, যা লন্ডন থেকে প্যারিস পর্যন্ত ১২৮টি ফ্লাইটের সমান। অনেক দরিদ্র পরিবার এখন চিকিৎসা পাচ্ছে ঘরে বসেই। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবায় নতুন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
চেল্মসফোর্ডের ব্রুমফিল্ড হাসপাতালে অবস্থিত সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বার্নস ইউনিটের নার্স সু বোসম্যান জানান, অনেক রোগী যাতায়াত খরচের কারণে চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, কেউ কেউ পরিবারের জন্য গরম খাবার আর চিকিৎসা খরচের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন।
বার্নস বাসটি সাফোক, নরফোক, কেমব্রিজশায়ার, পিটারবোরো, হার্টফোর্ডশায়ার, কেন্ট ও লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় রোগীদের কাছে যাচ্ছে। প্রতিদিন আট থেকে দশজন রোগী এই সেবা নিচ্ছেন, যেখানে তাদের পোড়া ক্ষত পরিষ্কার ও ড্রেসিং পরিবর্তন করা হয়।
সু বোসম্যান জানান, এটি যুক্তরাজ্যের প্রথম বার্নস বাস, তাই শুরুতে অনেক কিছুই নতুনভাবে সাজাতে হয়েছে। সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় বাসটি সবসময় পরিষ্কার রাখা হয় এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকল্পটি এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে লন্ডন ও সাউথ ইস্ট বার্নস নেটওয়ার্ক এবং ডরিস ম্যাসার ফাউন্ডেশনের সহায়তায়। তবে সু বোসম্যান আশা প্রকাশ করেছেন, পরীক্ষামূলক মেয়াদ শেষে বাসটি স্থায়ীভাবে চালু থাকবে।
মিড অ্যান্ড সাউথ এসেক্স এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ক্রিস্টিন ব্ল্যানচার্ড বলেন, এই উদ্যোগ সত্যিই বাস্তব পরিবর্তন এনেছে। তাঁর মতে, এই বার্নস বাস কেবল স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং সামাজিক বৈষম্য কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।















