লিসবনে ফুনিকুলার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৬ জনের, নিহত দম্পতির পরিবার ভেঙে পড়েছে

47

সাইফ হাসান: পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ভয়াবহ ফুনিকুলার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিটিশ দম্পতি কেলি স্মিথ (৩৬) ও উইলিয়াম নেলসন (৪৪)। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা ভীষণভাবে মর্মাহত। দুর্ঘটনায় আরও ২১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী এটিকে সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি বলে মন্তব্য করেছেন।

গত বুধবার রাতে এলেভাদর দা গ্লোরিয়া নামের ঐতিহাসিক ফুনিকুলার ট্রাম পাহাড় বেয়ে ছুটে গিয়ে একটি ভবনে ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিটেন, পর্তুগাল, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিহত হন। স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী তিনজন ব্রিটিশ নাগরিক মারা গেছেন, যদিও একজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

নিহত কেলি স্মিথ চেশায়ারের ম্যাকলসফিল্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ম্যানচেস্টারের আর্ডেন স্কুল অব থিয়েটার থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন এবং নেলসন ছিলেন একজন থিয়েটার পরিচালক। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেলির হাস্যরস আর দয়ার মনোভাব তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তুলেছিল। উইলিয়ামকে স্মরণ করে তার ভাই বলেছেন, তিনি শুধু আমার বড় ভাই নন, সবার কাছেই ছিলেন একজন নায়ক।

দুর্ঘটনার আগে ইনস্টাগ্রামে প্রথম দিনের ভ্রমণের ছবি পোস্ট করেছিলেন কেলি, যেখানে তিনি লিখেছিলেন—চার্চ, ক্যাসেল, টাইল আর ট্রাম। স্থানীয় নাট্য সংগঠন ম্যাডস থিয়েটারও শোকবার্তায় জানিয়েছে, কেলি ছিলেন প্রতিভাবান পরিচালক এবং বহু পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী, যার মৃত্যু উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের নাট্য জগতের জন্য বড় ক্ষতি।

এ ঘটনায় পর্তুগিজ পরিবহন ইউনিয়ন নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং দ্রুত আহতদের সুস্থতা কামনা করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, এখনো নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলেনি, তবে যান্ত্রিক ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা কারণ হতে পারে। লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিট থেকেও জানানো হয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে শোকাহত এবং পর্তুগালের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।