সাইফ হাসান: স্কটল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার ব্যবস্থা ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। জাতীয় পতাকা সল্টায়ার এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। কেউ এটি ব্যবহার করছে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনে, আবার কেউ বলছে এটি স্বাগত জানানোর প্রতীক। ফকলার্ক থেকে অ্যাবারডিন পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় উড়ছে পতাকা। রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় মানুষজন এখন তীব্র মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন।
ফকলার্কের ক্লাধান হোটেলে প্রায় ৯০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে বিক্ষোভ চলছে কয়েক সপ্তাহ ধরে। এ সময় স্থানীয়দের একাংশ রাস্তায় পতাকা টাঙিয়ে অভিবাসনবিরোধী বার্তা দিচ্ছে। তবে অনেকেই বলছেন, পতাকাটি স্কটিশ স্বাধীনতা আন্দোলন ও ক্রীড়া দলের গৌরবের প্রতীক, তাই এটি ঘৃণা ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা যায় না।
প্রথমমন্ত্রী জন সুইনি বৃহস্পতিবার বলেন, সল্টায়ার স্কটিশ জনগণের পতাকা এবং এটি সবসময় স্বাগত ও সংহতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল সরকারের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক কৃচ্ছ্রসাধন এবং ব্রেক্সিট–এর ফলে সৃষ্ট দারিদ্র্যই জনঅসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে। তার মতে, ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনীতিবিদরা অভিবাসীবিরোধী ভাষণ দিয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ করছেন।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় কয়েকটি স্থানীয় গ্রুপ দাবি করছে, তারা দূর-ডানপন্থী নয়, বরং রাজনীতিবিদদের কাছে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরছে। তবে ‘দ্য ফেরেট’ ও অন্যান্য পর্যবেক্ষকরা বলছে, হোমল্যান্ড পার্টি, ব্রিটেন ফার্স্ট ও প্যাট্রিয়টিক অল্টারনেটিভের মতো চরমপন্থী দল এ সুযোগে মাঠে নেমেছে এবং পরিস্থিতিকে বর্ণবাদী রূপ দিতে চাইছে।
গ্লাসগো সিটি কাউন্সিল বলছে, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের চাপ সামলাতে তাদের পরিষেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিমধ্যে গৃহহীনদের সংখ্যা বেড়েছে, ব্যয় দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি পাউন্ডে। কাউন্সিল নেতা সুসান আইটকেন সতর্ক করেছেন, অবস্থা এখন ‘ব্রেকিং পয়েন্টে’। এদিকে শরণার্থী অধিকারকর্মীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, গ্লাসগো ঐতিহাসিকভাবে শরণার্থীবান্ধব শহর, কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনা সাধারণ অভিবাসী পরিবার ও মুসলিম নারীদের জন্য ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করছে।














