সাইফ হাসান: মুক্তিপণের জন্য অপ*হরণ হওয়া ব্যক্তিদের মানবপা*চারের শিকার হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে ব্রিটিশ হোম অফিস যে দাবি করেছিল, তা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। লিবিয়ায় অপ*হৃত হওয়া এক সিরিয়ান আশ্রয়প্রার্থীর করা মামলায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের আপিলের বিরুদ্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অতীতে যাদের আবেদন বাতিল হয়েছিল, তারাও এখন সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন পাওয়ার সুযোগ পাবেন। ইউরোপে আসার পথে লিবিয়ায় এমন অপ*হরণ ও নি*র্যাতনের ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে।
মামলাটি করেছিলেন ২৫ বছর বয়সী এক সিরিয়ান যুবক, যিনি ২০২১ সালের জুলাই মাসে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া এবং কারাবাস ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে দেশ ছেড়েছিলেন। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার আশায় লিবিয়ায় পৌঁছালে ২০২১ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে ও অন্য সিরিয়ানদের অপহরণ করে এক মাস আটকে রাখে। অপহরণকারীরা তার টাকা ও ফোন কেড়ে নেয় এবং খাবার ও পানি ছাড়াই গুলির শব্দের মধ্যে টানা ২৪ ঘণ্টা মরুভূমির ভেতর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যায়।
মুক্তিপণ হিসেবে কয়েক হাজার ডলার আদায়ের জন্য অপহরণকারীরা তাকে বেঁধে হাত-পায়ে পেটাত এবং পরিবারের কাছে ফোনে টাকা চাওয়ার সময় চিৎকার শোনাতে মারধর করত। এমনকি মুক্তিপণ দেওয়ার পরও শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে নেওয়া হতে পারে বলে তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। পরবর্তীতে পরিবারের টাকায় মুক্তি পেয়ে তিনি নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যান এবং ২০২২ সালের ১৬ মে ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে আশ্রয়ের আবেদন করেন।
হোম অফিস দাবি করেছিল যে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক শ্রম করানো হয়নি বলে এটি মানবপাচারের নিয়মে শোষণ হিসেবে গণ্য হবে না, কিন্তু হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে আপিল আদালত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের সেই যুক্তি ভুল বলে রায় দেন। তথ্য অধিকার আইনের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মানবপাচারের শিকার হিসেবে নিশ্চিত হওয়া ১ হাজার ৭৭৮ জন আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে ৮৯ শতাংশকেই জোর করে যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। ডানকান লুইস প্রতিষ্ঠানের আইনজীবী জেরেমি ব্লুম এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে ভবিষ্যতে এবং অতীতে আবেদন বাতিল হওয়া হাজার হাজার ভুক্তভোগী নতুন করে ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজমে আবেদনের সুযোগ পাবেন, যদিও হোম অফিসের মুখপাত্র জানিয়েছেন তারা অভিবাসন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী করতে কাজ করছেন।
#যুক্তরাজ্য #হোম_অফিস #আশ্রয়প্রার্থী #মানবপাচার #aknews #onebanglanews















