কিয়ার স্টারমারের সামনে কঠিন পরীক্ষা: বাজেট ঘাটতি, অভিবাসন সংকট আর ট্রাম্পের বিতর্কিত সফর

303

সাইফ হাসান: ইউরোপ সফর শেষে নতুন অধিবেশন শুরুতে ওয়েস্টমিনস্টারে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।তবে বিরোধ, জনঅসন্তোষ আর দুর্বল জরিপের মাঝে তার সামনে আসছে বড় বড় পরীক্ষা।বাজেট ঘাটতি, দলের ভেতর শৃঙ্খলা, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফর ও অভিবাসন সংকট—সব মিলিয়ে চাপে রয়েছেন তিনি।বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী কয়েক মাস তার সরকারের জন্য হবে কঠিনতম সময়।

সাম্প্রতিক ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির সমর্থন মাত্র ২০ শতাংশে নেমে গেছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নাইজেল ফারাজের রিফর্ম ইউকের চেয়ে লেবার এখন আট পয়েন্ট পিছিয়ে। অর্থনীতি আর অভিবাসন ইস্যুতে নিয়ন্ত্রণহীনতা সরকারের ভাবমূর্তি আরও দুর্বল করেছে।

বাজেটই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভস ঘোষণা দিয়েছেন, আয়কর, ভ্যাট বা ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স বাড়ানো হবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক মন্দা আর মুদ্রাস্ফীতির কারণে ঘাটতি ৪০ বিলিয়ন পাউন্ড ছাড়াতে পারে। এ অবস্থায় রিভস উত্তরাধিকার কর বা মূলধন লাভের ওপর নতুন ট্যাক্স বাড়াতে পারেন, তবে জনসমর্থন পাওয়া কঠিন হবে।

দলের ভেতরও অস্থিরতা চলছে। কল্যাণভাতা কমানো নিয়ে বিদ্রোহী এমপিদের চাপের মুখে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। স্টারমার এখন দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা ফেরাতে সচেষ্ট, মন্ত্রীদের রদবদলের কথাও শোনা যাচ্ছে। লেবার এমপিরা আশঙ্কা করছেন, বামপন্থী জেরেমি করবিনের নতুন দল আর ডানপন্থী রিফর্ম ইউক দুই দিক থেকেই চাপ তৈরি করছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় রাষ্ট্রীয় সফরও স্টারমারের জন্য কূটনৈতিক দুঃস্বপ্ন হতে পারে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করতে পিছপা নন। ইতিমধ্যেই গাজা সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে দুই দেশের অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট। সফরকালে কোনো অঘটন ঘটলে তা সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হানতে পারে।

অভিবাসন সংকট নিয়েও স্টারমারের সরকার চাপের মুখে। ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন বাড়ছে, হোটেলে আশ্রয় দেওয়ার বিরোধে বিক্ষোভও বেড়েছে। সরকার প্রক্রিয়া দ্রুত করা আর ফ্রান্সের সঙ্গে ফেরত পাঠানোর চুক্তির কথা বললেও জনমত তাতে সন্তুষ্ট নয়। ফারাজ এই ইস্যুতে মাঠ গরম করছেন, আর আগামী বসন্তের স্থানীয় নির্বাচনের আগে লেবারের জন্য এটাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।