নরওয়েতে নিখোঁজ সাংবাদিক ছয় রাত জঙ্গলে পায়ে আঘাত নিয়ে টিকে ছিলেন

41

সাইফ হাসান: পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিবেশ সাংবাদিক অ্যালেক লুহন নরওয়ের ফোলগেফোনা জাতীয় উদ্যানে নিখোঁজ হওয়ার পর ছয় রাত পায়ে গুরুতর আঘাত নিয়ে জঙ্গলে টিকে ছিলেন। তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় খুব কম খাবার ও পানীয় নিয়ে তিনি বেঁচে ছিলেন। তিনি বর্তমানে বার্গেনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধারকারীরা এটিকে “অত্যন্ত ভাগ্যবান” ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

৩৮ বছর বয়সী মার্কিন সাংবাদিক অ্যালেক লুহন, যিনি নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য অ্যাটলান্টিক এবং ২০১৩-২০১৭ সালে দ্য গার্ডিয়ানের জন্য রাশিয়া সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন, ৩১ জুলাই ফোলগেফোনা জাতীয় উদ্যানে একা চার দিনের হাইকিংয়ে যান। ৫৫০ বর্গকিলোমিটারের এই উদ্যানে নরওয়ের তৃতীয় বৃহত্তম হিমবাহ রয়েছে। বার্গেন থেকে যুক্তরাজ্যে ফ্লাইট মিস করায় সোমবার তাকে নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১:৩৪-এ নরওয়েজিয়ান রেড ক্রস তাকে উদ্ধার করে। হাউকেল্যান্ড হাসপাতালের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও ট্রমা সেন্টারের প্রধান গিয়ের আরনে সুন্দে বলেন, “তিনি গুরুতর আহত, তবে জীবন-সংকটাপন্ন নন। পাঁচ দিন ধরে খারাপ আবহাওয়ায় খুব কম খাবার ও পানীয় নিয়ে তিনি টিকে ছিলেন। তিনি খুবই ভাগ্যবান।” ফোলগেফোনার অপারেশন নেতৃত্ব দলের প্রধান স্টিগ হোপ বলেন, “এত দিন পর কাউকে জীবিত পাওয়ার ঘটনা আমার মনে নেই। এটি উদ্ধারকারী দলের জন্য বড় স্বস্তি।”

উদ্ধার অভিযানে রেড ক্রস, পুলিশ, কুকুর, বিশেষায়িত আরোহণ দল এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার অভিযান স্থগিত করা হয়েছিল। লুহন বলেন, তিনি কয়েক দিন ধরে হেলিকপ্টারের শব্দ শুনেছিলেন, অবশেষে একটি হেলিকপ্টার তাকে দেখতে পায়। তার বোন ড্রু গ্যাডিস সামাজিক মাধ্যমে জানান, লুহন “সামগ্রিকভাবে ভালো স্বাস্থ্যে” আছেন এবং হেলিকপ্টারে বার্গেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি নরওয়ের পুলিশ, উদ্ধারকারী দল এবং সহায়তাকারী হাজার হাজার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। লুহনের স্ত্রী ভেরোনিকা সিলচেনকো বলেন, “আমরা খুব খুশি। নরওয়ের সবাইকে ধন্যবাদ।”

লুহন দুটি এমি মনোনয়নসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি মস্কো ও ইস্তাম্বুলে থেকেছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন, যেখানে তিনি জলবায়ু সাংবাদিকতায় বিশেষজ্ঞ এবং পুলিৎজার সেন্টার ওশান রিপোর্টিং নেটওয়ার্কের ফেলো। ফোলগেফোনা তার ফিয়র্ড, পাহাড়, নদী, হ্রদ এবং হিমবাহের জন্য বিখ্যাত। এই অঞ্চল ১৯শ শতাব্দী থেকে দুঃসাহসিক অভিযানের কেন্দ্র, তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় এটি বিপজ্জনক হতে পারে। লুহনের উদ্ধার একটি বিরল এবং আনন্দের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian