সাইফ হাসান: ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জনসংখ্যা ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ৭০০,০০০ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ১৯৪৯ সালের পর থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম বার্ষিক বৃদ্ধি। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স (ওএনএস) জানিয়েছে, এই বৃদ্ধির ৯৮% (৬৯০,১৪৭) এসেছে নেট আন্তর্জাতিক অভিবাসন থেকে, যা দেশে আগত এবং ত্যাগকারী মানুষের পার্থক্য। এটি ১৯৮২ সালের মাঝামাঝি থেকে প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে।
২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে ১,১৪২,৩০৩ জন ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অভিবাসন করেছেন, যেখানে ৪৫২,১৫৬ জন দেশ ত্যাগ করেছেন। এই নেট অভিবাসন ৬৯০,১৪৭ জন, যা মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির (৭০৬,৮৮১) প্রধান কারণ। প্রাকৃতিক জনসংখ্যা পরিবর্তন, অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্য, মাত্র ২৯,৯৮২ জন বৃদ্ধি যোগ করেছে, যেখানে জন্ম ছিল ৫৯৬,০১২ এবং মৃত্যু ৫৬৬,০৩০। এই সময়ে জনসংখ্যা ৬১.১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৬১.৮ মিলিয়ন হয়েছে, যা ১.২% বৃদ্ধি।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস থেকে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অংশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন (৫৬,৩০০) এর তুলনায় বিপরীত দিকে অভিবাসন (৪২,৬৯৩) কম ছিল, যার ফলে নেট অভ্যন্তরীণ অভিবাসনে ১৩,৬০৭ জনের ঘাটতি হয়েছে। ওএনএস-এর নিগেল হেনরেটি বলেন, “১৯৮২ সালের মাঝামাঝি থেকে জনসংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃদ্ধির হার বেশি। নেট আন্তর্জাতিক অভিবাসন এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি, যা গত শতাব্দীর শুরু থেকে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা।”
২০২৩ সালের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা ৬৮.৩ মিলিয়নে পৌঁছে ফ্রান্সের (৬৮.২ মিলিয়ন) জনসংখ্যাকে প্রথমবারের মতো ছাড়িয়ে যায়। ওএনএস অনুমান করেছে, ২০৩৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা ৭৩.৭ মিলিয়নে পৌঁছবে, যা পূর্বের অনুমানের চেয়ে এক দশক আগে ৭০ মিলিয়নের মাইলফলক স্পর্শ করবে। এই অনুমান ধরে নেয় যে নেট অভিবাসন ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত ১২ মাসে ৬৭০,০০০-এর শীর্ষ থেকে কমে ২০২৮ সাল থেকে ৩১৫,০০০-এ স্থিতিশীল হবে।
সরকার অভিবাসন কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে আইনি অভিবাসন পথে কাটছাঁট, কঠোর ইংরেজি ভাষার প্রয়োজনীয়তা এবং কিছু কাজের ভিসার নিয়ম কঠোর করা। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে “আইল্যান্ড অফ স্ট্রেঞ্জার্স” শব্দটি ব্যবহার করায় সমালোচনার মুখে পড়েন, পরে তিনি এই ভাষা ব্যবহারের জন্য “গভীরভাবে দুঃখ” প্রকাশ করেন।
যুক্তরাজ্যের জন্মহার ১.৪৪ শিশু প্রতি মহিলায় নেমে এসেছে, যা ১৯৩৮ সাল থেকে রেকর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং জনসংখ্যা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১-এর নিচে। শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন সমস্যা মানুষকে পরিবার শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত করছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই তরুণরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী সন্তান জন্ম দিক।”
এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ে বাংলাদেশী প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা চলছে, কারণ এটি আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার উপর চাপ সৃষ্টি করছে। কেউ কেউ অভিবাসন নীতির কঠোরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, অনেকে এটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















