সাইফ হাসান: যুক্তরাজ্যের নেট অভিবাসন এক বছরে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস)-এর সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত ১২ মাসে নেট অভিবাসনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজারে, যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন বার্ষিক পরিসংখ্যান। অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) এবং দেশান্তরের (এমিগ্রেশন) মধ্যেকার এই পার্থক্য গত এক বছরে ৬৯ শতাংশ কমেছে। রাজনৈতিক চাপের মুখে সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি গ্রহণ করায় এই পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোভিড-১৯ মহামারির পর যখন বরিস জনসনের সরকার বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাজ্যে আসার জন্য উৎসাহিত করেছিল, তখন ২০২৩ সালের মার্চ মাসে নেট অভিবাসন রেকর্ড ৯ লাখ ৪৪ হাজারে পৌঁছেছিল। এরপর থেকেই এই সংখ্যা দ্রুত কমতে শুরু করে। ওএনএস-এর তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫ এর মধ্যে প্রায় ৯ লাখ মানুষ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ লাখেরও বেশি কম। অন্যদিকে, এই সময়ে যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন ৬ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ, যা গত বছরের তুলনায় ৪৩ হাজার বেশি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বহির্ভূত নাগরিকদের আগমন কমে যাওয়াই এই আকস্মিক হ্রাসের প্রধান কারণ। তবে, অ-ইউরোপীয় নাগরিকরা এখনও যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবদান রাখলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ও ব্রিটিশ নাগরিকরা যুক্তরাজ্যে আসার চেয়ে বেশি সংখ্যায় দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ওএনএস-এর অনুমান অনুযায়ী, ব্রেক্সিট গণভোটের পর থেকে এই প্রবণতা অব্যাহত রেখে প্রায় ৭০ হাজার ইইউ নাগরিক এবং প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক এই সময়ে যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেছেন, এই হ্রাস দীর্ঘমেয়াদে বজায় নাও থাকতে পারে। তার মতে, ব্রেক্সিট-পূর্ববর্তী সময়ে আসা ইইউ নাগরিকদের নেতিবাচক নেট মাইগ্রেশন এখনও সংখ্যাটিকে কমিয়ে রাখছে, যা চিরকাল চলবে না। এদিকে, হোম অফিসের পৃথক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে থাকার সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষে ৩৬,২৭৩ জন আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে ছিলেন, যা জুনের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য স্থানীয় হোটেল ব্যবহারের বিরুদ্ধে গ্রীষ্মকালে প্রতিবাদ হয়। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রিরা স্কটল্যান্ড ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের দুটি ব্যারাক অস্থায়ীভাবে প্রায় ৯০০ পুরুষের জন্য ব্যবহারের ঘোষণা দেন। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ এই পরিসংখ্যানের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই সরকারের অধীনে নেট অভিবাসন অর্ধ-দশকের সর্বনিম্ন স্তরে এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কমেছে। তিনি আরও বলেন, “আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি, কারণ অভিবাসনের গতি ও মাত্রা স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে।”
#ইউকে_অভিবাসন_হ্রাস #ওএনএস_পরিসংখ্যান #ব্রিটিশ_রাজনীতি #অভিবাসন_নীতি #হোম_অফিস















