সাইফ হাসান: স্কটল্যান্ডের পার্থ মিউজিয়ামে স্টোন অব স্কুনের কাচের কেস ভাঙার চেষ্টার অভিযোগে সিডনির এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘ম্যালিসিয়াস মিসচিফ’ মামলা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। ৩৫ বছর বয়সী আরনউড হ্যারিক্সকাল্ডে লোগানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আট দিন হেফাজতে থাকবেন।
শনিবার বিকেলে পার্থ মিউজিয়ামে একটি ঘটনায় সিডনির ৩৫ বছর বয়সী আরনউড হ্যারিক্সকাল্ডে লোগান নামে এক ব্যক্তি স্টোন অব স্কুন নামক ঐতিহাসিক পাথরের কাচের কেস ভাঙার চেষ্টা করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১:৫৫ মিনিটে তারা মিউজিয়ামে ‘বিশৃঙ্খলা’র খবর পায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কিল্ট পরিহিত এক ব্যক্তি কাচের কেস ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ‘ম্যালিসিয়াস মিসচিফ’ অভিযোগে মামলা করে।
১৪ জুলাই সোমবার আরনউড হ্যারিক্সকাল্ডে লোগান পার্থ শেরিফ কোর্টে হাজির হন। তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি দেননি। আদালত তাকে আট দিনের জন্য হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তার পরবর্তী শুনানি আট দিন পর হবে। স্কটিশ আইনে ‘ম্যালিসিয়াস মিসচিফ’ এমন একটি অপরাধ, যা অন্যের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ভাঙচুরের মতো।
স্টোন অব স্কুন, যা স্টোন অব ডেসটিনি নামেও পরিচিত, শতাব্দী ধরে স্কটিশ এবং যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত। এই বেলেপাথরের টুকরো ১৯৫৩ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের এবং ২০২৩ সালে রাজা চার্লসের রাজ্যাভিষেকে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কটল্যান্ডে ফিরিয়ে আনা হয় এবং এডিনবরা ক্যাসেলে প্রদর্শিত হয়। ২০২৪ সালে ২৭ মিলিয়ন পাউন্ডের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এটি পার্থ মিউজিয়ামে স্থানান্তরিত হয়।
পুলিশ স্কটল্যান্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, “শনিবার দুপুর ১:৫৫ মিনিটে পার্থ মিউজিয়ামে বিশৃঙ্খলার খবর পাই। আমরা একজনকে গ্রেপ্তার করেছি এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।” তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। পার্থ মিউজিয়ামে এই পাথরটি প্রধান প্রদর্শনী হিসেবে রয়েছে, এবং এই ঘটনা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনা স্টোন অব স্কুনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই পাথরটি শতাব্দী ধরে স্কটল্যান্ডের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডের ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রাখা হয়েছিল, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। ১৯৯৬ সালে স্কটল্যান্ডে ফিরিয়ে আনার পর এটি জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। পার্থ মিউজিয়ামে এই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এবং কর্তৃপক্ষ এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই প্রতিবেদনের সূত্র: The Guardian















